ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বদলে গেছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র। দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক ট্রাফিকের বড় একটি অংশ এখন ঘুরে যাচ্ছে পূর্ব এশিয়ার দিকে। এর সরাসরি প্রভাবে বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলের তালিকায় বিশ্বজুড়ে শীর্ষ স্থান দখল করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনছন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
গ্লোবাল এয়ারপোর্ট ট্রেড বডি বা বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থা এসিআই-এর প্রাথমিক হিসাবের ভিত্তিতে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই তথ্য জানিয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে রাজধানী সিওল থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ইনছন বিমানবন্দর দিয়ে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল করেছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা লন্ডনের হিথরোকে পেছনে ফেলে তালিকার এক নম্বরে উঠে আসে ইনছন।
তালিকায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী নিয়ে যুক্তরাজ্যের হিথরো বিমানবন্দর দ্বিতীয় এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী নিয়ে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
২০০১ সালে চালু হওয়ার পর এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক যাত্রী ট্রাফিকে বিশ্বে শীর্ষে ওঠার গৌরব অর্জন করল ইনছন। ২০০২ সালে এটি বিশ্বের ১০ম স্থানে ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নতির পর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এটি তৃতীয় স্থানে উঠে আসে।
ইনছন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (আইআইএসি)-এর বরাত দিয়ে স্থানীয় ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর গতিপথ ব্যাহত হয়। ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার ট্রানজিট যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে পূর্ব এশিয়াকে বেছে নিচ্ছেন। এছাড়া চীন ও জাপান থেকে আসা বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা একলাফে অনেক বেড়ে যাওয়াও এই অর্জনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, হিথরো বিমানবন্দরে চলতি বছরের প্রথম অর্ধে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের যাত্রীসংখ্যা ৭.৯ শতাংশ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের বিমান চলাচল ১৬.৫ শতাংশ কমে গেছে। সংঘাতের প্রভাব এবং সার্বিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউরোপের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরের তকমাও হিথরোর হাতছাড়া হয়ে গেছে, যা এখন দখল করেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর।


