- খাদিজা পারভীন
মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর প্রধান মিন অং হ্লাইং আসিয়ানের পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নের বিষয়ে বারবার অবস্থান বদলেছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সংকট সমাধানে আসিয়ানের নেওয়া এই উদ্যোগে সম্মতির ইঙ্গিত দিলেও পরে এর বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি সামরিক শাসকগোষ্ঠী দাবি করেছে, মিন অং হ্লাইং ওই ঐকমত্যে কখনো সম্মত হননি।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ২০২১ সালের এপ্রিলে আসিয়ানের বিশেষ বৈঠকে পাঁচ দফা ঐকমত্য গৃহীত হয়। এতে সহিংসতা বন্ধ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ, আসিয়ানের বিশেষ দূত নিয়োগ, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং বিশেষ দূতের মিয়ানমার সফরের বিষয়ে সম্মতি হয়।
ওই বৈঠকে মিন অং হ্লাইং নিজেও উপস্থিত ছিলেন। পরে মিয়ানমারে ফিরে তিনি জানান, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পর এবং সেনাবাহিনীর নিজস্ব পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আসিয়ানের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসকগোষ্ঠী (জান্তা) সরকারও বিভিন্ন পর্যায়ে পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নে সহযোগিতার কথা জানিয়েছিল।
তবে বাস্তবে ঐকমত্যের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মিয়ানমারে সহিংসতা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপও শুরু হয়নি। আসিয়ানের বিশেষ দূতদেরও দেশটির সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের অক্টোবরে আসিয়ান জান্তা সরকারের ওপর চাপ বাড়ায়। পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় মিন অং হ্লাইংকে আসিয়ানের শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়।
এরপরও মিয়ানমারের জান্তা পাঁচ দফা ঐকমত্যকে পুরোপুরি অস্বীকার করেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে তারা এর বাস্তবায়নে সহযোগিতার কথা বলেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
সম্প্রতি জান্তা সরকারের পার্লামেন্ট পাঁচ দফা ঐকমত্য প্রত্যাখ্যানের পক্ষে ভোট দেয়। এরপর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ান প্রতিনিধিদের জানান, পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের পরও পাঁচ দফার কাঠামো কার্যকর রয়েছে। তবে এর পরদিনই মিয়ানমারের রাজধানী শহর নেপিডো থেকে ভিন্ন অবস্থান জানানো হয়।
জান্তা দাবি করে, মিন অং হ্লাইং কখনোই পাঁচ দফা ঐকমত্যে সম্মতি দেননি। একই সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই ঐকমত্য আর প্রাসঙ্গিক নয় বলেও দাবি করা হয়।
গত ৩১ জুলাই দেওয়া এক ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, পাঁচ দফা ঐকমত্য কোনো বাধ্যতামূলক আসিয়ান চুক্তি নয়। এটি আসিয়ান সভাপতির একটি বিবৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি নথি মাত্র।
মিয়ানমারের জান্তার এই অবস্থান নিয়ে আসিয়ানের সামনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, গত পাঁচ বছর ধরে মিয়ানমারের সংকট সমাধানে পাঁচ দফা ঐকমত্যকে কেন্দ্র করেই কাজ করার চেষ্টা করেছে আঞ্চলিক এই জোট।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, শুরু থেকেই মিন অং হ্লাইং পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিলেন কি না। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে ভবিষ্যতে কীভাবে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ চালানো হবে, তা নিয়েও আসিয়ানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
অনুবাদ: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী। সূত্র: ইরাবতী।


