ভারত-পাকিস্তান সংঘাত

ভূ-স্থল পেরিয়ে লড়াই এখন কক্ষপথে

নয়া দিগন্ত ডিজিটাল
  • রহিমা খাতুন

ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ ২০২৫ এ যুদ্ধবিমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বোনাসের প্রাধান্য থাকলেও সবচেয়ে কঠিন লড়াই হয়েছিল কক্ষপথে, যা ভূমি থেকে প্রায় কয়েকশো মিটার উপর। পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতাও সামনে এনেছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, চীনে তৈরি একটি জে-১০সি যুদ্ধবিমান ২০০ কিলোমিটারের বেশি দূর থেকে পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতের একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। ভারত অবশ্য এই দাবির বিস্তারিত বিবরণ অস্বীকার করেছে। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান সংঘাতে কয়েকটি যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছেন।

ভারতের নিজস্ব মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলেও সংঘাতে হামলার ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে দিল্লি মার্কিন স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সারের ছবিও ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সামরিক ক্ষেত্রে চীনা মহাকাশ প্রযুক্তির ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরশীল। গবেষকদের মতে, চীনের বেইদু-নির্ভর স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক পাকিস্তানকে ভারতীয় সেনা মোতায়েন ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে সহায়তা করতে পারে।

তবে পাকিস্তানের চীনের ওপর মহাকাশ প্রযুক্তিনির্ভরতা নতুন নয়। ভারত ও চীনও নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচির শুরুর দিকে বড় শক্তিগুলোর প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর নির্ভর করেছে। মিত্রদেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলেও এর ফলে আঞ্চলিক সংঘাতে তৃতীয় শক্তির প্রভাব বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ভারতও মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাকিস্তান ও চীনের ওপর নজরদারি বাড়াতে প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির আওতায় ৫২টি সামরিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে দিল্লি। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে মহাকাশ-বিরোধী সক্ষমতাও।

২০১৯ সালে ‘মিশন শক্তি’ পরীক্ষার মাধ্যমে কক্ষপথে একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস করার সক্ষমতা প্রদর্শন করে ভারত। এর ফলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পর মহাকাশে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অস্ত্রের সক্ষমতা প্রদর্শনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান চীনের সঙ্গে মহাকাশ সহযোগিতা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক আইনও এখনো সীমিত। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ মহাকাশে ব্যাপক ধ্বংসক্ষম অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করলেও প্রচলিত সামরিক, ইলেকট্রনিক ও সাইবার সক্ষমতা নিয়ে এতে স্পষ্ট বিধিনিষেধ নেই। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মহাকাশ সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

লেখক: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।