পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে দ্রুতই দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদ সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর মধ্যস্থতা উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুই প্রতিবেশীর কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতেই এই সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই সোমবার (১০ আগস্ট) এ আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, উপযুক্ত সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে।
দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করে ইসমাইল বাকেই বলেন, "দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবিকাশমান সম্পর্কের একটি স্বাভাবিক অংশ হলো এই দ্বিপক্ষীয় সফর এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বিনিময়।"
মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনা কমাতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সাহায্য করেছিল ইসলামাবাদ। এরপর গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত খসড়া চুক্তি বা 'ফ্রেমেওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট' বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখে তারা।
তবে দীর্ঘদিনের সেই কূটনৈতিক সাফল্য টেকসই হয়নি। গত মাসে চুক্তিটি হঠাৎ নস্যাৎ হয়ে যায়। এর পরপরই প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ওপর সরাসরি হামলা ও পাল্টা হামলা চালাতে থাকে।
পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠলে এবং সামরিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করলে সংকট সমাধানের লক্ষে নতুন করে আলোচনার খবরাখবর আসতে শুরু করে। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেন।
এমন এক স্পর্শকাতর ও অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। আঞ্চলিক শান্তি, দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা এবং সামরিক অস্থিরতা এড়াতে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


