পারস্য উপসাগরে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত জুনে স্বাক্ষরিত মধ্যবর্তী চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করা কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঠিক করার প্রচেষ্টা অচল হয়ে পড়েছে।
ইরানের জ্যেষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
গত জুনে দুই পক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধের মধ্যবর্তী চুক্তিতে সম্মত হয়। তবে জুলাইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি শেষ বলে ঘোষণা দেন। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও তা স্থগিত করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ব্যর্থ হয়েছে ইরান। জবাবে তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনও কথা রাখেনি; ইরানি বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তোলেনি এবং জব্দ করা সম্পদও ফেরত দেয়নি।
বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'ইরান কেবল ফাঁকা বুলিই ছড়ায়, তারা আর মধ্যপ্রাচ্যের মাতব্বর নয়।'
অন্যদিকে, প্রণালী ব্যবস্থাপনায় ইরানের গঠিত 'পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি' স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটন শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে।
একই সাথে ৬০ দিনের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর খবরও খণ্ডন করেছে তেহরান। চুক্তি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করেছিল উল্লেখ করে ইরানি সূত্রটি জানায়, 'যে সময়সীমা শুরুই হয়নি, তা বাড়ানোর কোনো প্রশ্ন ওঠে না।'
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই ও স্পিকার বাকের গালিবাফসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাও মার্কিন প্রতিশ্রুতি ছাড়া চুক্তি এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব বলে সতর্ক করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর থেকে প্রধানত ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিপরীতে ইরানও ইসরাইল, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।
এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে অন্তত ৭৫ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় জ্বালানি বাজার আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।


