দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
এর আগে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দায়ে বুধবার (১০ জুন) ভোরে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এই হামলাকে আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করলেও ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে দেখছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চল জুড়ে এখন দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং পাল্টা পাল্টি হামলা চলছে। ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে এবং এর আগে তারা বুশেহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে।
আইআরজিসি ও খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দফতরের পক্ষ থেকে এই যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তারা জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী আজ ভোরে সম্পূর্ণ মিথ্যা অজুহাতে ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের বেশ কয়েকটি জায়গায় অন্যায়ভাবে হামলা চালায়। শত্রুদের এই হামলায় সিরিক শহরের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বমানি জেলার দু’টি পানির ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই হামলার জবাবে স্থানীয় সময় রাত আড়াইটায় আইআরজিসি নৌবাহিনী বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালায়।
এই অভিযানে ঠিক কতটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো না হলেও, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর এই বীরত্বপূর্ণ জবাব অত্যন্ত জোরালো ছিল।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে জেনে রাখতে হবে যে, তারা যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারো কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে এই অঞ্চলে তাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আরো তীব্র ও ব্যাপক আকারে হামলা চালানো হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের এই অন্যায় ও উস্কানিমূলক আচরণ বন্ধ না করে, তবে সামনে তাদের জন্য আরো ভয়াবহ ও কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
সূত্র: আল জাজিরা, ইসনা



