ইসরাইলি কূটনীতিকদের কাছে গোপন তথ্য পাচারের মারাত্মক অভিযোগে নিজেদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে জাতিসঙ্ঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। ইরানি হ্যাকারদের ফাঁস করা তথ্যে উন্মোচিত হয়েছে এই গুপ্তচরবৃত্তি।
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হকের বরাত দিয়ে মিডলইস্ট মনিটর শুক্রবার (৭ আগস্ট) জানায়, ইয়াহাভ লিখনার নামের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা 'গুরুতর অভিযোগ' খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সংস্থাটি। লিখনারকে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ছুটি বেতনসহ নাকি বেতন ছাড়া, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। এই তদন্তে জাতিসঙ্ঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি সংস্থা যুক্ত আছে কি না বা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে মহাসচিবের সাথে পরামর্শ করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর মেলেনি।
ফারহান হক জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে ইউনিসেফের ওয়াশিংটন কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা জাতিসঙ্ঘের সনদ, আন্তর্জাতিক সরকারি চাকরির নিরপেক্ষতা ও কঠোর আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, সংস্থার কর্মীদের দায়িত্ব পুরোপুরি আন্তর্জাতিক, কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ ও ২০১৫ সালের নথি ফাঁসকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, লিখনার তখন জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলে (ইউএনএফপিএ) কাজ করতেন। সে সময় তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থার ভেতরের গোপন নথিপত্র এবং নীতিগত আলোচনার নানা সংবেদনশীল তথ্য ইসরাইলি কূটনীতিকদের সাথে ভাগ করে নেন।
ইরানি হ্যাকার দল 'হানদালা' জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রন প্রোসরের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার পর এই গোপনীয় তথ্য সামনে আসে। পরবর্তীতে তথ্য ফাঁসের আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট 'ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অফ সিক্রেটস' নথিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করে।


