গণমাধ্যমেই নির্ধারিত হয় জনমতের দিকনির্দেশনা: নৌরুজি

নয়া দিগন্ত ডিজিটাল

বিশ্বের গতিপ্রকৃতি ও সত্য উন্মোচনে সাংবাদিকদের ওপর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান আহমাদ নৌরুজি। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা মূলত বাস্তবতার সাথে জনমতের এক যুগলবন্দী বা সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন।”

ইরানের জাতীয় 'সাংবাদিক দিবস' উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ মাধ্যম পার্স টুডে-র বরাতে জানা যায়, বার্তায় আহমাদ নৌরুজি বলেন, “পেশাগত ক্ষেত্রে এই দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি একটি অটুট অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই অঙ্গীকার সাংবাদিকের সাথে সত্যের, গণমাধ্যমের সাথে জনগণের, কলমের সাথে দায়বদ্ধতার এবং লেখনীর সাথে ইতিহাসের।”

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এমন এক যুগে আমরা বাস করছি যেখানে তথ্য, ছবি ও আদর্শের প্রবাহে ভৌগোলিক সীমানা ম্লান হয়ে গেছে। জনমানুষের চিন্তাধারা, বিচার-বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আজ বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে গণমাধ্যম। ফলে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ওপর অর্পিত হয়েছে এক গভীর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা।”

আইআরআইবি (IRIB) ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি জানান, ইরানি সংস্কৃতি, সাধারণ মানুষের মূল চালিকাশক্তি, স্বাধীনতার আকুতি এবং বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের অবদমিত কণ্ঠস্বরকে বস্তুনিষ্ঠতা ও শৈল্পিক দক্ষতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল কাজ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বজুড়ে আধিপত্যবাদী গণমাধ্যমের প্রভাবে যে বাস্তবতা ও জাতিগুলোর আসল লড়াই ঢাকা পড়ে যায়, তা সত্যের আলোয় উন্মোচিত করাই ইরানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মূল ব্রত। মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বাধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াইকে কেবল 'সংবাদ' হিসেবে না দেখে, একটি মানবিক ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

বার্তার শেষভাগে, বিগত কয়েক দশকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান আহমাদ নৌরুজি। সত্য প্রকাশ ও গণমানুষের অধিকার রক্ষায় শহীদ হওয়া সাংবাদিকদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমকর্মীদের পথ দেখাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুবাদ: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী। সূত্র: পার্স টুডে।