পাকিস্তানের বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চের ঘোষণা দিয়েছে। রাজনৈতিক মিত্রদের সাথে বৈঠক ও আলোচনার পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন শনিবার (৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী শফি জান নিশ্চিত করেছেন যে, পিটিআই এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই ২৭ সেপ্টেম্বরের লং মার্চের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ আর নয় একদিনের
দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাসের তিন বছর পূর্তিতে দেশজুড়ে 'কালো দিবস' পালন ও প্রতিবাদের পরই এই লং মার্চের ডাক এলো। ইমরান খান ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তি, সংবিধানের শাসন পুনরপ্রতিষ্ঠা, মূল্যস্ফীতি থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়া, জনগণের হারানো জনমত ফিরিয়ে আনা এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছে দলটি। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তথ্যমন্ত্রী শফি জান পরিষ্কার জানান, এবারের 'ইসলামাবাদ লং মার্চ' শুধুমাত্র একদিনের কোনো কর্মসূচি হবে না, এটি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। রাজধানী অভিমুখে আন্দোলনের জন্য পিটিআই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে।
আইনি পথ রুদ্ধ, একমাত্র পথ রাজপথ
সরকারের কড়া সমালোচনা করে শফি জান জানান, দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মৌলিক, সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইনি বা সাংবিধানিক উপায়ে সুবিচারের সব পথই এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই লং মার্চ ছাড়া দলটির সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আন্দোলনের ঢেউ তুলতে ইতিমধ্যে পাঞ্জাবসহ অন্যান্য প্রদেশে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধারাবাহিক সেমিনারের আয়োজন করা হবে, যেখানে মূল ভূমিকা রাখবে তরুণ সমাজ। যুবশক্তিকে উৎসাহিত করে তিনি দাবি করেন, কোটি কোটি মানুষ এই আন্দোলনে শরিক হবে।
পিপিপিকে সরকার ছাড়ার আহ্বান
সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হওয়ার খোলা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে (পিপিপি) উদ্দেশ করে তিনি বলেন, পিপিপির উচিত বর্তমান সরকারের সঙ্গ ত্যাগ করে সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানো এবং বিরোধী জোটে যোগ দেওয়া। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা জনগণের রায় চুরি করে ক্ষমতায় বসে আছে, তাদের এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হতে হবে এবং নিজেদের কাজের জবাব দিতে হবে।
ইমরান খানের দীর্ঘ আইনি জটিলতা
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এর এক বছর পর, ২০২৩ সালের ৯ মে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলার জন্ম দেয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডের দুর্নীতির মামলায় আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন তিনি। এছাড়া ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলাটি মূলত সৌদি যুবরাজের কাছ থেকে সরকারি সফরে পাওয়া বুুলগারি জুয়েলারি সেট বেআইনিভাবে নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্র করে। ২০২৩ সালের মে মাসের সহিংসতার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


