ভারতীয় গণমাধ্যম সংকটময় সময় পার করছে

নয়া দিগন্ত ডিজিটাল
দ্য ওয়্যার সম্পাদক সীমা চিশতি
দ্য ওয়্যার সম্পাদক সীমা চিশতি |সংগৃহীত
  • তামান্না আক্তার

ভারতের গণমাধ্যম বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দ্য ওয়্যারের সম্পাদক সীমা চিশতি। তিনি বলেছেন, বড় গণমাধ্যম যখন ছোট ও প্রান্তিক কণ্ঠস্বরগুলোকে গুরুত্ব দিতে অনাগ্রহী, তখন ছোট ও স্বাধীন গণমাধ্যমের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

সম্প্রতি তিরুবনন্তপুরম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক এন. নরেন্দ্রনের ২৫তম স্মরণ বক্তৃতায় এসব কথা বলেন সীমা চিশতি। ‘মিডিয়া বিয়ন্ড জন্তর মন্তর’ শীর্ষক এ বক্তৃতার আয়োজন করে সাংবাদিক এন. নরেন্দ্রনের বন্ধুদের সংগঠন।

সীমা চিশতি বলেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ‘ভালো তথ্য’ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে ছোট ও স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোকে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও বিভিন্ন সহযোগিতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারতের গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশটির বড় বড় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এ সময় প্রচারণামূলক সাংবাদিকতা এবং ‘এরর ৪০৪ জার্নালিজম’ ক্রমেই গুরুত্ব পেয়েছে। ‘এরর ৪০৪ জার্নালিজম’ বলতে পুরোনো ও সমালোচনামূলক সংবাদ প্রতিবেদন ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে বোঝানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ‘ছোটই শক্তিশালী’—এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাই ছোট ও স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রযুক্তির পরিবর্তন ও নতুন উদ্ভাবনের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান সীমা চিশতি। সাংবাদিকদের একসঙ্গে কাজ করে এমন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যা সাংবাদিকতা ও তথ্যপ্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

অনুষ্ঠানে আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এন. মাধবন কুট্টি। সাংবাদিক এন. নরেন্দ্রনের স্মরণ বক্তৃতা সিরিজের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার গণমাধ্যমবিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুবাদ: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।