সীমান্ত সুবিধার উন্নয়ন ঘটিয়ে ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য কার্যক্রম চাল রাখা, লজিস্টিকস বা মালামাল পরিবহনের অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে পাকিস্তান ও ইরান।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে জানায়, বুধবার পাকিস্তানের প্রানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে সাক্ষাৎ করে ইরানি শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ আতাবাকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এক ইরানি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে দুই দেশই খনি খাতে, বিশেষ করে মূল্যবান পাথরের প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মান উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সম্মতি জানিয়েছে।
শাহবাজ শরিফ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানের সাথে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্যায়ন করে পাকিস্তান। অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান তার আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে তিনি সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুই দেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দুপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্ধারিত ১ হাজার কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।
খাদ্য, কৃষি পণ্য ও সংশ্লিষ্ট খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী একই সাথে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইন খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের জন্য শুভকামনা জানান।
ইরানি মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ আতাবাক তাদের প্রতিনিধিদলকে দেওয়া উষ্ম অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। আঞ্চলিক শান্তির জন্য পাকিস্তানের আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ইরানের সাথে সংহতি জানানোর জন্য তিনি পাকিস্তানের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রশংসা করেন।
পাকিস্তানের সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে তেহরানের আগ্রহের কথা জানান ইরানি মন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান-ইরান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা বর্তমানে চলমান রয়েছে।


