জার্মানিতে তীব্র দাবদাহে প্রাণ হারালেন সাড়ে ১২ হাজার মানুষ

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এটি রক্ষণশীল হিসাব। ফলে প্রখর তাপে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দেশটিতে তাপজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনা এটাই সর্বোচ্চ
দেশটিতে তাপজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনা এটাই সর্বোচ্চ |সংগৃহীত

চলতি বছর জার্মানিতে অতিরিক্ত গরম ও দাবদাহে অন্তত ১২ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালে হিসাব রাখা শুরুর পর থেকে কোনো একক বছরে দেশটিতে তাপজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনা এটাই সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি জনস্বাস্থ্য সংস্থা 'রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের' (আরকেআই) সবশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ৬ এপ্রিল থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়েরে ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এটি রক্ষণশীল হিসাব। ফলে প্রখর তাপে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। এর আগে গত এক দশকের মধ্যে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৪০০ এবং ২০১৯ সালে ৭ হাজার ৭০০ জন গরমে মারা যান। সে তুলনায় এবার বছরের অর্ধেক সময় পার হতেই গড় বার্ষিক সংখ্যাকে ছাপিয়ে গেছে প্রাণহানি।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে প্রবীণরা

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপদাহে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন প্রবীণরা। ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৬ হাজার ৩০০ জন এতে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সী ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি এবং ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন মারা যান। ৬৫ বছরের কম বয়সী মারা গেছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনের শেষ সপ্তাহে চলা প্রখর দাবদাহে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে। শুধু ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যেই প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জন প্রাণ হারান। ওই দিনগুলোতে জার্মানির বহু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

জার্মানির জাইয়ারল্যান্ড এবং রাইনল্যান্ড-পালাটিনেট রাজ্যে এই তাপে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন। সেখানে প্রতি ১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে যথাক্রমে ৪৩.৪ এবং ৩৮.৭ জনের মৃত্যু হয়। সারা দেশে এই গড় হার প্রতি ১ লাখে ১৫ জন।

সংস্থাটি জানায়, দিন ও রাতের তাপমাত্রা মিলিয়ে সাপ্তাহিক গড় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেই তাপে মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে শুরু করে। ২৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে সেই গড় তাপমাত্রা ছিল ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সূত্র: আনদোলু