পুলিশকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহসিকতার সাথে কাজ করতে হবে : আইজিপি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির পুলিশ সদস্যদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সাহসিকতার সাথে আইনশৃঙ্খলা রার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, পুলিশের পরিচয় একটাই- তারা আইনের রক্ষক ও জনগণের সেবক।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সারা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। মাঠপর্যায়ের কাজ গতিশীল করতে সিনিয়র অফিসারদের সরাসরি সঠিক তদারকি থাকলে নিচের স্তরের সদস্যরা কাজ করতে উৎসাহিত হয়। কোনো পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার দায় বাহিনী নেবে না এবং সেেেত্র কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে নিরপেভাবে জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আইজিপি বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে বলেন, প্রথাগত অপরাধের চেয়ে এখন সাইবার ক্রাইম, গুজব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার মোকাবেলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ বাহিনীকে অকার্যকর করার যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দেন আইজিপি।

একই অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ অপরাধ দমনে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সিটিটিসি, ডিবি ও ক্রাইম বিভাগকে সমন্বিতভাবে ২৪ ঘণ্টা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ছাড়া মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং থানা এলাকার হোটেল ও স্পা সেন্টারে যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

মামলার তদন্ত কার্যক্রম আরো গতিশীল ও নিখুঁত করতে প্রতিটি অপরাধের ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সশরীরে পরিদর্শন করার নির্দেশ দেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং পারিপার্শ্বিকতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদথঘাটনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।