নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে এবং একজন করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের। তবে এ সময়ে কেউ নিশ্চিত হামে মারা যায়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সময় নতুন করে নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৫ জন। এর মধ্যে ৯৫১ জনের দেহে হামের উপসর্গ মিলেছে। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৪ জনের।
এ ছাড়া নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৯৫ শিশু, আর সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৬৩ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮৯০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৯১ জন।
একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৭৬ শিশুর। আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে (পরীায় প্রমাণিত) ১৭ হাজার ৫৪৩ শিশুর। মোট হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৬১৯ শিশু। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৯০৮ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ১৭ হাজার ৬৯০ জন।
চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১৩১, রাজশাহীতে ৯৪, ময়মনসিংহে ৭৪, চট্টগ্রামে ৭২, বরিশালে ৬৬, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
সিলেটে এক সপ্তাহে ১১ জনের মৃত্যু
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত সাত দিনে হাম ও উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনই শিশু। অপরজন ১৮ বছরের মোট তরুণী। ৭ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের সাত দিনের তথ্য পর্যালোচনায় এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এ সময়ে শুধু ৮ আগস্ট কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বাকি ছয় দিনেই একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় (১৩ আগস্ট) আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৪ জনে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৬ জন।
গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
সর্বশেষ মারা যাওয়া দুই বছরের জেসি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের সে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৯৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৪ জনে। এর মধ্যে সিলেটে ২৯৮, হবিগঞ্জে ১৩০, মৌলভীবাজারে ১৩৩ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৩ জন রয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৬ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর হাম ও উপসর্গে সিলেট বিভাগে মারা যাওয়া ১৩১ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয় জনের। বাকি ১২৫ জন মারা গেছেন হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে।


