সব মতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ : মামুনুল হক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, রাষ্ট্রের সব মতা এককেন্দ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। মতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সরকারি নিয়োগে দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা এবং নিরপে নির্বাচন কমিশন গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা জরুরি। গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস উপজেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণ পৃথক দু’টি ব্যালটে তাদের মতামত দিয়েছে। সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হলেও গণভোটে জনগণের দেয়া মতামত সমান গুরুত্ব পায়নি।

তিনি বলেন, গণভোটে বাংলাদেশের মানুষ সংস্কারের পে রায় দিয়েছে। ওই রায়ের উদ্দেশ্য এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা দল স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী মতা কুগিত করতে না পারে। জনগণের রায়কে উপো করা হলে তাদের অধিকার রায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজপথে থাকবে।

মামুনুল হক বলেন, আমরা সারা দেশে নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে দু’টি বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে চাই। প্রথমত, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয়ত, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা এবং সরকারকে সতর্ক করা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। মানুষের আত্মত্যাগের ল্য শুধু সরকার পরিবর্তন ছিল না; বরং রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং দেশের ওপর যেকোনো ধরনের আধিপত্যের অবসান ঘটানো। যে দল মতায় আসে, তাদের রাজনৈতিক কর্মীদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনকে দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী দিনের নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি নিরপে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলের সাথে প্রত্যভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হলে কমিশনের নিরপেতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিপুল মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা শুধু মতার পালাবদলে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। রাষ্ট্রব্যবস্থার কাক্সিত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই; আমরা একটি বৈষম্যমূলক ও এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। এমন ব্যবস্থা চাই না, যা ভবিষ্যতে আবার কোনো শাসককে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ দেবে।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক মর্যাদাভিত্তিক সম্পর্ক চায়। তবে বাংলাদেশের ওপর কোনো ধরনের আধিপত্য বা হস্তপে জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বন্ধুত্ব করতে চাইলে বাংলাদেশ উত্তম বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে জনগণ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

এ সময় সমাবেশে করিমগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ দ্বীন ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী এবং বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান। এ ছাড়া দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।