সুস্থ থাকতে ঘুমকে গুরুত্ব দিন

Printed Edition

সুস্থ জীবনযাপনের কথা উঠলে সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম কিংবা ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোই বেশি আলোচনায় আসে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ বলছে, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে হলে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি শুধু ক্লান্তিই বাড়ায় না, এটি স্মৃতিশক্তি, হৃদ স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবয়সে যারা নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এতে শরীরের জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম স্বাভাবিক থাকে এবং ঘুমের মান উন্নত হয়।

চিকিৎসকরা আরো বলছেন, ঘুমানোর অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও টেলিভিশনের ব্যবহার কমিয়ে আনা উচিত। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নীল আলো শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন ব্যাহত করে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।

এ ছাড়া বিকেলের পর অতিরিক্ত চা-কফি পান, রাতে ভারী খাবার খাওয়া এবং ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত পানি পান করাও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দিলেও ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী শরীরচর্চা না করার কথা বলেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শীতল, নিরিবিলি ও অন্ধকার ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা ভালো ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াও প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের ভাষায়, সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যয়বহুল কোনো উপায় নয়, বরং নিয়মিত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান, দৈনন্দিন হাঁটাচলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর বিনিয়োগ।