অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস : ৫৩ ওভারে ১৯৮/১০
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ২৪ ওভারে ৯৬/১
ক্রীড়া প্রতিবেদক
কী আশ্চর্য একদিন! যে অস্ট্রেলিয়ার বিপে মাঠে নামলেই বাংলাদেশের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে যায়, সেই অস্ট্রেলিয়াকেই মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লিখলেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত হোসেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদেরই ব্যাটিং লাইনআপকে এমন দাপটে নতজানু করা চাট্টিখানি কথা নয়। বল হাতে বাংলাদেশের পেসাররা সুইং, গতি আর নিখুঁত লাইন-লেন্থে একের পর এক ব্যাটসম্যানকে করেছেন অসহায়। এরপর ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে দিন শেষ করাটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এক মহার্ঘ্য মুহূর্ত। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন দিন আসে কমই যেদিন প্রতিপরে শক্তির গল্প নয়, গল্পটা হয় লাল-সবুজের সাহস, সামর্থ্য আর স্বপ্নের।
দেশের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে এটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ায় এমন একটা দিন বাংলাদেশ কাটাবে শতকরা পাঁচজনও হয়ত! তা ভাবেননি। ক’দিন আগে এই বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। তার ওপর ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশের যে দল টেস্ট খেলেছে, সেই দলের কোনো ক্রিকেটারেরই ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। গতকাল ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটা দাপট দেখিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’র বাস্তব রূপ দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনের খেলা শেষে ১০২ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
৪৮ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৩ রানে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়া চা পানের বিরতির পর খেলতে পেরেছে কেবল ৫ ওভার। শেষ ২ উইকেটে যোগ করেছে মাত্র ১৫ রান। বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই উইকেট হারাতে পারত। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে জশ হ্যাজলউডকে কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারতে যান তানজিদ হাসান তামিম। আকাশে দীর্ঘণ ভেসে থাকা বল পয়েন্ট থেকে উল্টো দিকে দৌড়েও তালুবন্দী করতে পারেননি নাথান লায়ন। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৬ আর তানজিদ তামিম রানের খাতা খুলতেই পারেননি।
উদ্বোধনী জুটি অবশ্য বেশিণ স্থায়ী হয়নি। ৬ রানে যে সাদমান ইসলাম-তামিমের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারত, তা ভেঙেছে ৩৬ রানে। নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিচেল স্টার্ককে লেগ সাইডে ঘোরাতে যান সাদমান। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় কাভার পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা লায়নের হাতে। সাদমান ৩০ বলে ২ চারে করেন ২০ রান। সাদমানের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামেন মুমিনুল হক। তানজিদের সাথে সাবলীলভাবে খেলতে থাকেন মুমিনুল। দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন তানজিদ ও মুমিনুল। ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। মুমিনুল ৩৫ ও তামিম ৩২ রানে অপরাজিত আছেন।
এর আগে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেড। ওয়েদারাল্ড (২৩), হেডকে (২২) দ্রুত ফিরিয়ে শুরুতে ধাক্কা দেন হাসান মাহমুদ। এরপর মারনাস লাবুশেনের (১) উইকেট নেন ইবাদত। আর লাঞ্চের আগে ক্যামেরন গ্রিনকে (১৩) ফেরান তাসকিন। হঠাৎ ধসে ৪ উইকেটে ৭৪ রানে পরিণত হয় অসিরা।
স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি দু’জনে মিলে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৫৫ রানের জুটি, যা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এই জুটি ভাঙতেই ৬৯ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অসিরা। স্মিথের ৭১ রানই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ। ১০৯ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৭ চার ও ১ ছক্কা। অস্ট্রেলিয়ার বিপে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ। তিন ফাইফারের তিনটিই নিয়েছেন বিদেশের মাঠে। স্বাগতিকদের অপর ৪ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী। দু’জনেই দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন। এ দিন বাংলাদেশের ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের কীর্তি গড়েছেন তাসকিন।
সংপ্তি স্কোর
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস : ৫৩ ওভারে ১৯৮ (হেড ২২, ওয়েদারাল্ড ২৩, লাবুশানে ১, স্মিথ ৭১, গ্রিন ১৩, কেয়ারি ১৯, ওয়েবস্টার ১২, কামিন্স ৯, স্টার্ক ১, লায়ন ৭, হেজেলউড ৪*; তাসকিন ২/৫৫, হাসান মাহমুদ ৬/৫৫, ইবাদত ২/৩৯, মিরাজ ০/১২, তাইজুল ০/২৪)।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ২৪ ওভারে ৯৬/১ (সাদমান ২০, তানজিদ ৩২*, মুমিনুল ৩৫*; স্টার্ক ১/২৮, হেজেলউড ০/১৯, গ্রিন ০/১২, কামিন্স ০/১৪, লায়ান ০/১৬)।


