ক্রীড়া ডেস্ক
অপেক্ষার প্রহর শেষ। নর্থ আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ‘এ’ গ্রুপের এই লড়াই। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচের ম্যারাথন আসরের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই দ্বৈরথ।
১৬ বছর আগের স্মৃতি যেন আবারো ফিরে আসছে। ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার স্বাগতিক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। সিফিওয়ে তশাবালালার ঐতিহাসিক গোলের জবাব দিয়েছিলেন রাফায়েল মার্কেস। কাকতালীয়ভাবে এবারো মার্কেস মেক্সিকোর ডাগআউটে থাকবেন, তবে সহকারী কোচের ভূমিকায়।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে তৃতীয়বারের মতো আয়োজক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর এবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের আয়োজক তারা। অভিজ্ঞ কোচ জাভিয়ের আগুইরের নেতৃত্বে ‘এল ত্রিকালার’ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য এবার মেক্সিকোর।
ফিফা রথ্যাংকিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা মেক্সিকো সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে। চলতি বছরে তারা পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের সাথে ড্র করেছে। এ ছাড়া ঘানা, অস্ট্রেলিয়া ও সার্বিয়াকে হারিয়ে টানা তিনটি জয়ও পেয়েছে। বিশেষ করে সার্বিয়ার বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয় বিশ্বকাপের আগে তাদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর রেকর্ডও দুর্দান্ত। ১৯৯৪ সালের পর থেকে তারা টানা সাতটি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে।
অন্য দিকে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালের পর টানা তিনটি আসরে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলেও এবার আফ্রিকান বাছাইপর্ব উতরে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে তারা। বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রুসের অধীনে দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও লড়াকু ফুটবল খেলে পরিচিতি পেয়েছে।
তবে প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সর্বশেষ চারটি প্রীতিম্যাচে তারা জয়হীন। পানামা, নিকারাগুয়া ও জ্যামাইকার বিপক্ষে কাক্সিক্ষত ফল না পাওয়ায় কিছুটা চাপে রয়েছে ‘বাফানা বাফানা’রা। তা সত্ত্বেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাদের দৃঢ় মানসিকতা এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার সামর্থ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে মেক্সিকোকে।
মেক্সিকোর আক্রমণের বড় ভরসা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেজ। নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের হয়ে আর একটি গোল করলেই কিংবদন্তি জারেদ বোর্গেটির গোলসংখ্যা স্পর্শ করবেন। এ ছাড়া হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ভোগাতে পারে। অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণে নজর থাকবে লাইল ফস্টার ও অসউইন অ্যাপোলিসের ওপর।
ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম, স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন এবং তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী স্কোয়াড- সব মিলে ম্যাচটিতে মেক্সিকোকেই এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরোধী মানসিকতা ম্যাচকে জমিয়ে তুলতে পারে। বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার এই মহারণে মেক্সিকো জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে চাইবে। আর দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য থাকবে চমক দেখিয়ে বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যরে বার্তা দেয়া। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে চমকের ইতিহাসও কম নয়। তাই ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় থাকবেন, ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের প্রথম পাতায় কোন দল নিজেদের নাম লিখিয়ে নেয় তা দেখার জন্য।



