সংসদ প্রতিবেদক
দেশে কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিনের কোনো সঙ্কট নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন। আগামীতে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না।
গতকাল জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের তারকা চিহ্নিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সসহ দেশের সব হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানোর প্রতিষেধক (অহঃর-জধনরবং ঠধপপরহব) সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৫ ভায়াল বা ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ১০ জুন পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের (অজঠ) ৫০টি ভায়াল মজুত আছে। এ ছাড়া শরীরের ওপরের অংশে কুকুর কামড়ালে তড়িৎ অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য ব্যবহৃত ইমিউন গ্লোবুলিন (ওসসঁহব এষড়নঁষরহ) ভ্যাকসিনের মজুদ রয়েছে ৬৫ ভায়াল বা ২৬০ ডোজ।
পরবর্তীতে ওই সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরবরাহ ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা সারা বাংলাদেশে তিন স্তরে স্টক (মজুদ) রেডি রেখেছি। শুধু এটি নয়, প্রতিটি ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেই উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ রাখা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের জোগান নিশ্চিত করতে সরকারের ‘চার স্তরের’ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে যদি কোনো উপজেলায় মাত্রাতিরিক্ত রোগী আসে এবং স্টক শেষ হয়ে যায়, তবে পাশের উপজেলা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। সেখানে শেষ হয়ে গেলে জেলা থেকে নেবে। জেলার মজুদও যদি শেষ হয়ে যায়, তবে কেন্দ্র বা সিএমএসডি (ঈগঝউ) থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাৎক্ষণিকভাবে কিনে দেবেন।
অতিদ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ : সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো: আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।



