সচিবালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক প্রসঙ্গ

জামায়াতের নিন্দা অস্বীকৃতি বিএনপির

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বাংলাদেশ সচিবালয় হলো রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে সরকারি দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে বলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে এ বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপি বলছে, প্রধানমন্ত্রী নেতাদের ডেকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি। তবে, আলোচনা হয়েছে।

আগারগাঁওর নির্বাচন ভবনে গতকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের পর দুই দলের পক্ষ থেকে এই বৈঠক বিষয়ে বিপরীতমুখী মন্তব্য পাওয়া গেছে।

ইতিহাসে এমন নজির নেই : ড. হামিুদর রহমান

মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে আয়োজিত সংপ্তি প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস জানা নেই। সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা, এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে! শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে এমন অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নাই। এই কাজটি উনারা করছেন! তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কিভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র।

সংসদে মেজরটি না থাকার পরেও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চাই। ১৯৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখন তো সেই সম্ভাবনাও নাই, বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজরিটি সুনিশ্চিত কলাকৌশলে করে নিয়েছে। সে কারণে তাদের সেফ সাইড আছে। এখানে জিতব কি হারব এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এ সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।

সচিবালয়ে বিএনপির কোনো বৈঠক হয়নি : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘বৈঠকে’ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণায় জামায়াতের সমালোচনার জবাবে ইসিতে মনোয়নপত্র জমা দেয়ার পর ব্রিফিং-এ মতাসীন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আজকে সচিবালয়ে কোনো বৈঠক ছিল না। যেহেতু তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান, ওনাকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছিলাম, উনি আমাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতাদের ডেকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি। তবে, আলোচনা হয়েছে।

সচিবালয়ে বিএনপির প্রার্থিতার বিষয়ে বৈঠক সম্পর্কে জামায়াতের সমালোচনার জবাবে প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন দল থেকে এবং এ দল তাকে মনোনীত করেছে। দলের মিটিং যেখানে হয়েছে সেটা কোনো মিটিং নয়, যেটা হয়েছে আমরা আলোচনা করেছি। আলোচনা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। আগেই সিদ্ধান্ত ছিল, সেটাকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আমাদের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন।

একই বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটা স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল না। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আগেই দলীয় চেয়ারম্যানকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গণভোটের সাথে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। গণভোট পুরোপুরি মানাও যাবে, না মানাও যাবে; কিন্তু আমরা মানব। সে গণভোটটা আমরা পর্যায়ক্রমে সংসদে প্রতিফলিত করব। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা একটা আলাদা বিষয়। এটা নিয়ম রার বিষয় না। হয়তো আপনারা বলতে পারেন তারা পরাজিত হবে জেনেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন; কিন্তু তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান না করে অংশগ্রহণ করছে, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাদেরকে অভিন্দন জানাই।