কোকোর নামে জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা

‎এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে—১৯৭৭ সালে সরকারের অধিগ্রহণ করা বগুড়ার ওই ২০ একর জমি শেষ পর্যন্ত কিভাবে ‘আরাফাত রহমান ন্যাশনাল প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’র জন্য ব্যবহৃত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরাফাত রহমান
আরাফাত রহমান |ফাইল ছবি

‎বগুড়ার তিনমাথা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় ২০ একর সরকারি জমিতে ‘আরাফাত রহমান ন্যাশনাল প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ, বগুড়া’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য জমিটির বর্তমান অবস্থা, মালিকানা ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

‎সম্প্রতি বগুড়া জেলা প্রশাসনের একটি সরকারি চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে এ উদ্যোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

‎নথিতে বলা হয়েছে, বগুড়া জেলার সদর উপজেলার তিনমাথা এলাকার পুরান বগুড়া ও শোলারগাড়ি মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক বিভাগের আওতাধীন জমির একটি অংশ ‘আরাফাত রহমান ন্যাশনাল প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ, বগুড়া’ স্থাপনের জন্য ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

‎নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত জায়গাটির মোট পরিমাণ প্রায় ২০ একর। এর মধ্যে পুরান বগুড়া মৌজায় প্রায় ১৯.৬৯ একর এবং অন্য একটি মৌজায় প্রায় ০.৩১ একর জমি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভূমির বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ান নম্বরও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জমির তালিকায় একাধিক দাগের বিপরীতে জমির পরিমাণ আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে এবং সব মিলিয়ে মোট জমির পরিমাণ ২০ একর বলে উল্লেখ রয়েছে।

‎১৯৭৭ সালে অধিগ্রহণ
‎নথির সাথে সংযুক্ত পুরোনো সরকারি গেজেটের কপিতে দেখা যায়, উল্লিখিত জমির একটি বড় অংশ ১৯৭৭ সালে সরকার অধিগ্রহণ করে। ১৯৭৭ সালের ১৯ এপ্রিলের নোটিশে তৎকালীন ‘সম্পত্তি জরুরি অধিগ্রহণ আইন, ১৯৪৮’-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অধিগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গেজেটের তফসিলে পুরান বগুড়া মৌজার বিভিন্ন সিএস প্লট নম্বর এবং জমির পরিমাণ দেয়া হয়েছে।

‎ওই গেজেট অনুযায়ী, পুরান বগুড়া মৌজায় প্রায় ১৯.৬৯ একর এবং অন্য একটি মৌজায় প্রায় ০.৩১ একর জমি নিয়ে মোট প্রায় ২০ একর ভূমি সরকারের অধিগ্রহণে আসে। ফলে প্রস্তাবিত প্যারা স্পোর্টস ভিলেজের জন্য যে জমির কথা বলা হচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—এমন তথ্যই নথিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

‎প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ের কথা উল্লেখ‎
‎বগুড়া জেলা প্রশাসনের চিঠিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়’ অনুযায়ী তিনমাথা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে ‘আরাফাত রহমান ন্যাশনাল প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ, বগুড়া’ স্থাপনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়।

‎নথিতে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক বিভাগের সম্পূর্ণ জায়গা ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

‎মন্ত্রীর চিঠিতেও জমি ব্যবহারের অনুরোধ
‎নথির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-সংক্রান্ত সংসদীয় দায়িত্বে থাকা মীর শাহে আলম এমপির স্বাক্ষরিত আধা-সরকারি চিঠি রয়েছে। ওই চিঠিতেও বগুড়ার তিনমাথা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ‘আরাফাত রহমান ন্যাশনাল প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ, বগুড়া’ স্থাপনের জন্য ব্যবহারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

‎চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক বিভাগের সম্পূর্ণ জায়গা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‎জমির দাগ-খতিয়ানের বিস্তারিত তালিকা‎
‎প্রস্তাবের সাথে জমির তফসিল ও দাগপুঞ্জিও সংযুক্ত করা হয়েছে। নথিতে বিভিন্ন দাগ নম্বরের বিপরীতে খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমির বিবরণ দেয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত ২০ একর জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য ভূমি রেকর্ডও সংযুক্ত করা হয়েছে।

‎তালিকার শেষাংশে বিভিন্ন দাগের জমির পরিমাণ যোগ করে মোট জমির পরিমাণ ২০.০০ একর দেখানো হয়েছে।

‎এখন মূল প্রশ্ন বাস্তবায়ন নিয়ে‎
‎সরকারি নথিতে প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের উদ্যোগের কথা স্পষ্টভাবে উঠে এলেও প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয়, বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা, নকশা কিংবা অর্থের উৎস সম্পর্কে সংযুক্ত নথিগুলোতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কী প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর বা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এই নথিতে নেই।

‎ফলে প্রস্তাবিত ২০ একর জমি শেষ পর্যন্ত কোন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কী প্রক্রিয়ায় সেখানে প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে—এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

‎তবে নথির ধারাবাহিকতা থেকে দেখা যায়, বিষয়টি শুধু একটি প্রাথমিক প্রস্তাবের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পর্যায় থেকে জমি ব্যবহারের অনুরোধ, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি পাঠানো এবং জমির দাগ-খতিয়ানসহ বিস্তারিত তফসিল সংযুক্ত করার মাধ্যমে উদ্যোগটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে।

‎বগুড়ায় প্রতিবন্ধী ও প্যারা অ্যাথলেটদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠলে এটি উত্তরাঞ্চলের ক্রীড়াক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন ও প্যারা অ্যাথলেটদের আবাসন সুবিধা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের জন্য এটি একটি স্থায়ী অবকাঠামো হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

‎এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে—১৯৭৭ সালে সরকারের অধিগ্রহণ করা বগুড়ার ওই ২০ একর জমি শেষ পর্যন্ত কিভাবে ‘আরাফাত রহমান ন্যাশনাল প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’র জন্য ব্যবহৃত হবে।