হাসানের দুর্দান্ত বোলিং

স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের স্বপ্নের দিন

সাদমান ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে ৯৬ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেন তানজিদ ও মুমিনুল। ৪টি চারে তানজিদ ৩২ এবং মুমিনুল ৬ বাউন্ডারিতে ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
একাই ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান মাহমুদ
একাই ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান মাহমুদ |ক্রিকইনফো থেকে নেয়া ছবি

ডান-হাতি পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং তোপে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন হাসান।

জবাবে দুই ব্যাটার তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হকের দৃঢ়তায় প্রথম দিন শেষে ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান করেছে বাংলাদেশ। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ১০২ রানে পিছিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে স্বপ্নের মতো দিন কাটালো বাংলাদেশ।

ডারউইনের মারার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে ৭১ বলে ৪৫ রানের সূচনা করেন দুই অজি দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড।

১২তম ওভারের চতুর্থ বলে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার হাসান মাহমুদ। ৪ বাউন্ডারিতে ২৩ রান করে হাসানের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে ক্যাচ দেন ওয়েদারাল্ড।

এক ওভার পর অস্ট্রেলিয়ার আরেক ওপেনার হেডকেও শিকার করেন হাসান। ৩ বাউন্ডারিতে ২২ রান করা হেডকে বোল্ড করেন হাসান। ৫২ রানে দুই ওপেনারকে হারায় অস্ট্রেলিয়া।

কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশকে তৃতীয় উইকেট উপহার দেন পেসার এবাদত হোসেন। তিন নম্বরে নামা মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে বিদায় করেন এবাদত। খোঁচা মেরে দ্বিতীয় স্লিপে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দেন লাবুশেন।

প্রথম সেশনের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। পেসার তাসকিন আহমেদের বলে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে ১৩ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরেন ক্যামেরুন গ্রিন। ফলে প্রথম সেশনে ৪ উইকেটে ৭৪ রান তুলে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।

এ সময় অন্য প্রান্তে ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। অবশ্য এবাদতের করা ইনিংসের ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তৃতীয় স্লিপে স্মিথের ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ তামিম। তখন স্মিথের রান ছিল ২।

৭৪ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর অস্ট্রেলিয়াকে চাপমুক্ত করেন স্মিথ ও উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি। পঞ্চম উইকেট ৫৫ রানের জুটি গড়েন দলের রান ১০০ পার করেন দু’জনে।

স্মিথ-ক্যারির জমে যাওয়া জুটিতে ভাঙন ধরার এবাদত। ব্যক্তিগত ১৯ রানে ক্যারিকে বোল্ড করেন তিনি।

দলীয় ১২৯ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে ক্যারি ফেরার পর সতীর্থদের নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন স্মিথ। এতে ষষ্ঠ উইকেটে বো ওয়েবস্টারকে নিয়ে ২৩ এবং সপ্তম উইকেটে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সাথে ২০ রান যোগ করেন স্মিথ। এ সময় টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৫তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান স্মিথ।

এরপর ওয়েবস্টারকে ১২ রানে তাসকিন এবং কামিন্সকে ৯ ও মিচেল স্টার্ককে ১ রানে শিকার করেন হাসান।

দলীয় ১৮৯ রানে অস্ট্রেলিয়ার নবম ব্যাটার হিসেবে স্মিথকে বিদায় দিয়ে ১৫ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১০৯ বলে ৬৭ রান করেন স্মিথ।

শেষ ব্যাটার ন্যাথান লিঁও ৭ রানে হাসানের ষষ্ঠ শিকার হলে ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। এই প্রথম বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে ২০০ নিচে গুটিয়ে গেল অজিরা। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন রান ছিল ২১৭। যা ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে সংগ্রহ করেছিল অজিরা। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন জশ হ্যাজেলউড।

১৭ ওভারে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে কোন বাংলাদেশি বোলারের এটিই সেরা বোলিং ফিগার। এই ইনিংসে বাংলাদেশের অন্য দুই পেসার তাসকিন ৫৫ রানে এবং এবাদত ৩৯ রানে ২টি করে উইকেট নেন।

অস্ট্রেলিয়ার সবগুলো উইকেট দখল করেছেন বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান-তাসকিন ও এবাদত। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার টেস্টে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসে ১০ উইকেট ভাগাভাগি করেছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা।

জবাব দিতে নেমে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান। ৫০ বলে ৩৬ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। অস্ট্রেলিয়ার পেসার স্টার্কের বলে লিঁওকে ক্যাচ দিয়ে থামেন ২ চারে ২০ রান করা সাদমান।

সাদমান ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে ৯৬ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেন তানজিদ ও মুমিনুল। ৪টি চারে তানজিদ ৩২ এবং মুমিনুল ৬ বাউন্ডারিতে ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন।

স্টার্ক ২৮ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট।