প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছেন ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ফিফা) জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাকে সরানোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্প। ফিফাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইনফান্তিনোকে সরানো তো দূর, সরানোর কথা ভাবলেও ভুগতে হবে বিশ্বফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যদি কোনো কারণ ছাড়াই সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ফিফা ভাবে, তা হলে তারা বিরাট ভুল করবে। এর ফল ওদের ভুগতে হবে। ইনফান্তিনো দুর্দান্ত। কয়েক দিন আগেই সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করে দেখিয়েছে। ও না থাকলে বিশ্বকাপ আর এত সফল ও লাভজনক হবে না। আশা করছি, সকলে আমার কথা শুনবে।’
ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর এই বন্ধুত্ব নতুন নয়। বিশ্বকাপের আয়োজনের আগে ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপে বার বার ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তার এক ফোনে মার্কিন ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের সাসপেনশন তুলে নেয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় কম বিতর্ক হয়নি। বার বার প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্প। আরো এক বার সেই কাজ করলেন তিনি।
কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপের মালিকানা বেসরকারি হাতে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। যে সংস্থার হাতে সেই মালিকানা যেত তার নেপথ্যে রয়েছেন জোশুয়া কুশনার। তিনি সম্পর্কে ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের ভাই। সেই ঘটনা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বাতিল করতে হয় ইনফান্তিনোকে। তার পরেও বিতর্ক কমছে না।
এরই মধ্যে সোমবার এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা একযোগে একটি খোলা চিঠি লিখেছে ইনফান্তিনোর উদ্দেশে। তাদের দাবি, বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা করে সকলের বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছেন ইনফান্তিনো। সোমবার ‘ফুটবল পরিবার’-এর উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে তিন মহাদেশ জানিয়েছে, অর্থ বা বিশ্বকাপ নিয়ে আগে হওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামো এবং যারা সেটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের নিয়ে।
তিন মহাদেশ জানিয়েছে, গত এক দশকে ফুটবলের যে সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে তাতে ফিফা, সব মহাদেশীয় সংস্থা, সদস্য সংস্থাকে এবং ফুটবল নিয়ে গোটা বিশ্বে যে হাজার হাজার মানুষ কাজ করছেন তাদের জন্যই সম্ভব হয়েছে। ফিফার হাতে যে অর্থ রয়েছে তা দিয়ে সদস্য দেশগুলোর প্রতি বিনিয়োগ আরো শক্তিশালী করা যায় বলে তাদের মত।
তিন মহাদেশ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ, দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সিদ্ধান্ত সকলে একসাথে মিলে নেয়া হয়েছে। তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তাদের দাবি আরো গুরুত্বপূর্ণ। খেলার সততা এবং যাদের হাতে সেই সততা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে তাদের নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিন মহাদেশ দায়ী করেছে ফিফার যোগাযোগের অভাব।
তিন মহাদেশ চিঠিতে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কারো সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। পুরোটাই কয়েকজন মানুষ মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করার সুযোগও সদস্য দেশগুলোকে দেয়া হয়নি।
একদম শেষে তিন মহাদেশের দাবি, ফিফা চালানোর জন্য যিনি সবচেয়ে যোগ্য তাকেই দায়িত্ব দেয়া হোক। অর্থাৎ ইনফান্তিনোকে যে তিন মহাদেশ চায় না, তা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ফুটবলমহলের ধারণা, এই চিঠির ফলে ইনফান্তিনোর পক্ষে পদ বাঁচানো মুশকিল। তার মাঝেই ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়ালেন ট্রাম্প।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


