ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সঙ্কট। বিশ্বকাপের মালিকানা আংশিক বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনাসহ নানা ইস্যুতে সমালোচনার মুখে এবার সরাসরি ফিফার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তিন প্রভাবশালী কনফেডারেশন।
উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি সোমবার (১০ আগস্ট) যৌথভাবে একটি কঠোর চিঠি প্রকাশ করেছে। ইনফান্তিনোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও চিঠির বক্তব্যে ফিফা সভাপতির নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করা হয়।
সম্প্রতি বিশ্বকাপের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পাশাপাশি অংশীদারিত্ব বিক্রির একটি পরিকল্পনা সামনে এনেছিল ফিফা। ব্যাপক সমালোচনার পর সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে চার বছর মেয়াদি চক্রের জন্য দুই কোটি ডলারের তহবিল গঠনের কথা জানায় সংস্থাটি। তবে বিতর্ক সেখানেই থামেনি।
যৌথ চিঠিতে তিন কনফেডারেশন স্পষ্ট করে বলেছে, ফুটবল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাদের অভিযোগ, নেতৃত্বের অর্থ ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করা নয়; বরং ফুটবলের সেবা করা।
চিঠিতে আরো বলা হয়, প্রতারণা বা আস্থার সঙ্কটের মাধ্যমে যখন কোনো ব্যক্তি সেই সম্মিলিত ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে নিজেকে স্থান দেন, তখন তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
এরই মধ্যে গত সপ্তাহে মরক্কোতে ফিফার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইনফান্তিনো ক্ষমা চাইলেও উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেসও ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
মরক্কোর ওই বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ। তাদের দাবি, সেখানে মাত্র একজন নির্বাচিত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। শুধু সমালোচনা নয়, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা।
তাদের মতে, এই তদন্তে ফিফার কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়। কিভাবে এমন গুরুতর সিদ্ধান্ত ও আস্থার সঙ্কট তৈরি হলো, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আরো একটি পুরোনো অভিযোগ সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে এক নারী কর্মীকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে উয়েফা তদন্ত শুরু করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফিফা। সংস্থাটির দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে দুর্বল করার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ।
ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়, নেতৃত্ব নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকলে তা অবশ্যই সংস্থার বিধি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনেই করতে হবে। ইনফান্তিনোর পক্ষে অবশ্য এখনো সমর্থন রয়েছে। আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশনের ৫৪ সদস্য দেশের সমর্থন আছে তার প্রতি।
সেই সাথে মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, ইকুয়েডর ও বলিভিয়া তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে প্রায় এক ডজন অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য ফিফা সভাপতি নির্বাচনে লড়ার কথা রয়েছে ইনফান্তিনোর। কিন্তু উয়েফাসহ গুরুত্বপূর্ণ কনফেডারেশনগুলোর সাথে প্রকাশ্য বিরোধ এবং ক্রমবর্ধমান আস্থার সঙ্কট তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।


