- রহিমা খাতুন
ইউরোপ জুড়ে যখন আগুনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে তখনই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে প্রাচীন জ্ঞানকে একত্র করে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়া। স্যাটেলাইট ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি প্রাচীন জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দাবানোর নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দেশটি।
ক্যানবেরাভিত্তিক দাবানল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মার্তা ইয়েব্রার নেতৃত্বে এ নিয়ে কাজ করছে বাশফায়ার রিসার্স সেন্টার অব এক্সিলেন্স (Bushfire Research Centre of Excellence)। ২০১৯-২০ সালের ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই সময় অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ আগুনে প্রায় যুক্তরাজ্যের সমান বিশাল এলাকা পুড়ে যায়।
গবেষকেরা স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে ভূমির জ্বালানির আর্দ্রতার পরিমাণ ‘Fuel Moisture Conten’ শনাক্ত করছেন। শুকনো পাতা, ঘাস, ঝোপঝাড় ও গাছের ছালের মতো দাহ্য উপাদানে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে গেলে সেখানে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ে। স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আগেই চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠী ইউরোপীয়দের আগমনের বহু আগে থেকেই ভূমি ব্যবস্থাপনায় আগুনের ব্যবহার করে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রকৃতি ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই জ্ঞান এখন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ উপকূলে বেড়ে ওঠা অ্যাড্রিয়ান ওয়েবস্টার তার প্রবীণদের কাছ থেকে স্থানীয় পরিবেশ বা ‘কান্ট্রি’ পড়ার কৌশল শিখেছেন। কোন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি, পরিবেশের পরিবর্তন কীভাবে বোঝা যায়—এসব অভিজ্ঞতাও গবেষণায় কাজে লাগানো হচ্ছে।
গবেষকদের আশাবাদী যে, আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত তথ্য এবং আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের পরিবেশজ্ঞান একত্র করলে ভবিষ্যতে দাবানল আরও দ্রুত শনাক্ত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
লেখক: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।


