গার্মেন্টস ও সকল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ অন্য শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিতের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্তত কিছুটা অবকাশ ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাংক সুদ মওকুফ করাসহ তিন মাসের জন্য ইনস্টলমেন্ট পেমেন্ট স্থগিত রাখতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
একইসাথে চলমান পরিস্থিতিতে কোনো বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করাসহ মাস টু মাস বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধের বর্তমান অনুশীলিত নিয়ম রহিত করে কোনো জরিমানা ছাড়াই তা পরিশোধে ৯০ দিনের একটি বিলম্ব মার্জনা পিরিয়ড অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
শনিবার (৮ জুলাই) দুই মন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে দু’টি পৃথক জরুরি পত্র দেন চেম্বার সভাপতি।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক পত্রে উল্লেখ করেন, বিগত অনেক দিন যাবৎ দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহজনিত সীমাহীন বিঘ্নিতের ফলে রফতানিমুখী গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হয়। এমনকি গ্যাস বিদ্যুতের সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে অনেক কারখানা বন্ধও হয়ে যায় অথবা অলিখিত লে-অফ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের এই বিপুল সরবরাহ হ্রাস ও বিঘ্নিতের কারণে দেশের প্রায় সকল ফ্যাক্টরিই উৎপাদন ব্যহত হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। শিল্পের উৎপাদন ব্যহত হওয়ার কারণে তাদের রফতানি বা বিক্রয়ও ব্যাপক হারে হ্রাস পায় বা ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে শিল্পমালিকদের পণ্যের উৎপাদন খরচও না উঠাসহ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক সুদ ও ইউটিলিটি বিল প্রদান এবং এমনকি প্রাত্যহিক খরচাদিও বহন করা সম্ভব হয়নি। আগামী কয়েক মাসও এর ধকল শিল্পোদোক্তাদের বহন করতে হবে বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়।
পত্রে তিনি আরো বলেন, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে বিক্রয় বা রফতানি আয় হ্রাস পেয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও যদি তাদের ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝা বহন করতে হয়, তবে তা তাদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবেই আবির্ভূত হবে। এই বিষয়টি বর্তমান সরকারের দেশে যে কোনো মূল্যে শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার সর্বজন প্রশংসিত দূরদর্শী চেতনা ও উদ্যোগের সাথে সাংঘর্ষিক হবে।
বিষয়টি দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টার ব্যাপারে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মাঝে ভুল বার্তা দিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


