ভোলার দৌলতখানে নিখোঁজের ৩ দিনের মাথায় লিটন নায়েব (৩২) নামে এক যুবকের লাশ প্রতিবেশীর নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে বালুচাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের নায়েব বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত লিটন ওই গ্রামের হারুন নায়েবের ছেলে। গত ১০ মার্চ রাত ১১টার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, লিটনের স্ত্রী কয়েকদিন আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে তার বাবারবাড়িতে বেড়াতে যান। লিটন নিজ বাড়িতেই ছিলেন। ১০ মার্চ রাত ১০টার দিকে তিনি স্থানীয় বাজার থেকে ফিরে নিজ ঘরে শুয়ে ছিলেন। এরপর স্বজনরা দেখেন লিটন ঘরের নিজ কক্ষে নেই এবং শুধুমাত্র ঘরের জানালা খোলা।
পরবর্তীতে রাত পেরিয়ে সকাল হলে স্বজনরা চারিদিকে খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গতকাল দৌলতখান থানায় লিটনের নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন স্বজনরা।
পুলিশ জিডির সূত্র ধরে লিটনের মোবাইল ফোনের কল হিস্ট্রি বের করে দেখেন লিটন নিখোঁজ হওয়ার আগ মুহূর্তে সর্বশেষ ইয়াসমিন নামে এক নারীর সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। ওই নারীর লোকেশন তার বাড়ির পাশেই এবং তার স্বামী প্রবাসী।
তারা আরোও জানান,পরবর্তীতে স্বজনরা প্রতিবেশী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন তিনি গতকাল হঠাৎ বাড়ি থেকে অন্য কোথাও চলে গেছেন। এবং 'স্বজনরা ওই নারীর বসতঘরের পাশে নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখেন ভেতর বালু দিয়ে কবরের মতো করে রাখা। বিষয়টি তাদের সন্দেহ হলে পরবর্তীতে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে নিখোঁজ লিটনের লাশ বালুচাপা অবস্থায় পান স্বজনরা। স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এসে লাশ উদ্ধার করেন। স্বজনদের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
দৌলতখান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সিকদার সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেশী প্রবাসী মোসলেউদ্দিনের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে নিখোঁজ লিটনের লাশ উদ্ধার করেছে।
ওসি আরো বলেন, ওই বাড়িতে মোসলেউদ্দিনের স্ত্রী ইয়াসমিন একাই থাকেন বলে জানা গেছে। এর আগে, লিটনের স্বজনরা থানায় জিডি করেছিল,পরবর্তীতে লিটনের সর্বশেষ অবস্থান ও কার সাথে কথা বলেছিল তা শনাক্ত করি। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



