আমিরাতের শ্রমবাজারে লালবাতি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও এটিকে আমাদের জনশক্তি খাতের আমূল সংস্কারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। কেবল আবেগ বা সস্তা শ্রমের ওপর ভর করে আধুনিক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব। বাংলাদেশ সরকার যদি কঠোরভাবে দালাল চক্র দমন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারে, তবে খুব দ্রুতই এই অচলাবস্থা কেটে যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি এবং বাংলাদেশী জনশক্তির অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে বাংলাদেশসহ ৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য পর্যটন, কর্ম ও ব্যবসায়িক ভিসায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। আপাতদৃষ্টিতে একে কেবল একটি কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মনে হলেও এর গভীরে রয়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দালাল-সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং প্রবাসীদের একাংশের আইনগত অসচেতনতা। রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখতে এবং দেশের লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এই সঙ্কটের অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান ও এর স্থায়ী সমাধান খোঁজা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের এই থমকে যাওয়ার পেছনে বেশ ক’টি কারণ দৃশ্যমান।

ট্যুরিস্ট ভিসার অপব্যবহার : সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যটকদের জন্য উদার। এই উদারতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ পর্যটক সেজে দুবাইতে পাড়ি জমিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে। এরা দুবাই গেছেন মূলত কাজ খোঁজার উদ্দেশ্যে। বৈধ ওয়ার্কভিসার দীর্ঘসূত্রতা ও খরচ এড়াতে দালালরা সাধারণ মানুষকে এই আত্মঘাতী পথের যাত্রী করেছে। দুবাই পৌঁছে অনেকেই যখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থান ভিসায় রূপান্তর করতে পারেননি, তখন তারা সেখানে অবৈধ হয়ে পড়েছেন। ইমিগ্রেশন আইনের এই ধারাবাহিক লঙ্ঘন আমিরাত সরকারকে কঠোর হতে বাধ্য করেছে। ট্যুরিস্ট ভিসাকে কাজের মাধ্যম বানানো এবং ফ্রি ভিসার নামে মানবপাচার, তা আমিরাতের সুশৃঙ্খল ডিজিটাল ইমিগ্রেশন সিস্টেমের কাছে ধরা পড়ে যায়। এর ফলে, বৈধ ও সৎ ব্যবসায়ী বা পেশাজীবীদেরও এখন এই সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞার খেসারত দিতে হচ্ছে।

সাধারণ নিয়মে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে চাকরি খোঁজা বা কাজ করা অবৈধ। বাংলাদেশে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং খরচ এড়াতে দালালরা বৈধ ওয়ার্ক ভিসার পরিবর্তে তিন মাসের ভিজিট ভিসা দিয়ে শ্রমিকদের দুবাই পাঠায়। দুবাই পৌঁছানোর পর নিয়ম ছিল নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ভিজিট ভিসাকে কর্মসংস্থান ভিসায় রূপান্তর করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাত সরকার এই ‘ভিসা স্ট্যাটাস চেঞ্জ’ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে। দুবাইতে অবৈধ হয়ে পড়া এশিয়ান প্রবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশীদের সংখ্যা অন্যতম শীর্ষ তালিকায় চলে আসে। আমিরাতের আইন অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রতিদিনের জন্য ৫০ দিরহাম (প্রায় এক হাজার ৬০০ টাকা) জরিমানা গুনতে হয়। বহু শ্রমিক এই বিপুল জরিমানা দিতে না পেরে ‘আউট পাস’ নিয়ে বা পুরোপুরি আত্মগোপন করে অবৈধ শ্রমিক হিসেবে কম মজুরিতে কাজ করা শুরু করেন।

আইনি পরিভাষায় আমিরাতে ‘ফ্রি ভিসা’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। অথচ এক শ্রেণীর অসাধু ট্র্যাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় ‘কফিল’ (স্পন্সর) মিলে ভুয়া বা নামসর্বস্ব কোম্পানি খুলে কর্মী আমদানির কোটা বিক্রি করেছে। চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে দুবাইয়ে পা ফেলার পর সাধারণ শ্রমিকরা দেখছেন সেই কোম্পানির কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। চাকরি না পেয়ে লেবার ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন, অবৈধভাবে কম মজুরিতে কাজ করা এবং ক্ষুন্নিবৃত্তির তাগিদে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। অথচ সাধারণ শ্রমিকরা মনে করেন ‘ফ্রি ভিসা’ মানে তারা দুবাই গিয়ে যেকোনো জায়গায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।

প্রবাসীদের অসচেতনতা : বাংলাদেশী সংস্কৃতির অংশ হিসেবে যেকোনো জাতীয় বা রাজনৈতিক সঙ্কটে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার একটি প্রবণতা রয়েছে। রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ বা মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুবাই ও শারজাহর রাস্তায় প্রবাসীদের বিক্ষোভ প্রদর্শন আমিরাত প্রশাসনকে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাদের ক্ষমা করে দিলেও ইউএই প্রশাসন তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশসহ সুনির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর কঠোর ভিসা স্ক্রিনিং ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

বিগত বছরগুলোতে আমিরাতের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে কেবল ‘সন্দেহজনক পর্যটক’ হওয়ার কারণে শত শত বাংলাদেশীকে নামতেই দেয়া হয়নি এবং একই ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কারণ, তাদের কাছে পর্যাপ্ত হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকিট এবং পকেট মানি (ন্যূনতম তিন হাজার দিরহাম) ছিল না। চাকরি না পেয়ে এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিক দুবাই বা শারজাহর লেবার ক্যাম্পগুলোতে গাদাগাদি করে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। অনেকেই স্থানীয় আইন ভেঙে কম বেতনে অবৈধ ‘ক্যাশ জবে’ (যেমন— দিনমজুরি, গাড়ি ধোয়া বা ফেরি করা) জড়িয়ে পড়েন। অপরাধী চক্র এদেরকে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়, জালিয়াত চক্র, মাদক বা চুরির মতো কাজে প্ররোচিত করে। আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বাংলাদেশী ফ্রি-ভিসার কর্মীদের কারণে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক চাপ তৈরি হচ্ছিল। এই সঙ্কটের কারণে ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে আমিরাত সরকার বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই প্রবাসী মাত্র ১০-১৫ শতাংশ আমিরাতি নাগরিক। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রবাসী-নির্ভর দেশ। ফলে বাংলাদেশীরা দেশটির অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বাংলাদেশী প্রবাসীদের বেশির ভাগই দুবাই, আবুধাবি ও শারজায় বসবাস ও কাজ করেন। এছাড়া আজমান, রাস আল খিমা এবং আল আইন শহরেও উল্লেøখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী রয়েছেন।

আমিরাতে থাকা বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ মূলত ব্লু-কালার কর্মী (সাধারণ ও দক্ষ শ্রমিক)। তারা প্রধানত নির্মাণ খাত, পরিচ্ছন্নতা ও পৌরসেবা, কৃষি, পরিবহন এবং বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে দুবাই এবং শারজাহতে বাংলাদেশীদের মালিকানাধীন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় (যেমন— গ্রোসারি শপ, কার্গো সার্ভিস, রেস্তোরাঁ ও রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ) বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে নতুন কর্মী বা ভিজিট ভিসার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং কড়াকড়ির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে নতুন করে বাংলাদেশীদের যাওয়ার হার অনেকটাই কমে এসেছে। তবে যারা আগে থেকেই বৈধ ভিসা বা রেসিডেন্সি পারমিট নিয়ে সেখানে আছেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাজ পরিচালনা করছেন। ২০২৬ সালের সর্বশেষ জনমিতি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় প্রবাসীর মোট সংখ্যা প্রায় ৪৩ লাখ ৯০ হাজার । দেশটির মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৩৭.৯৬ শতাংশ নাগরিকই ভারতীয়। তারা আমিরাতের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান প্রবাসী জনগোষ্ঠী। আমিরাতে কর্মরত মোট ভারতীয়দের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই সরাসরি কর্মজীবী বা শ্রমিক (বাকি অংশ পরিবার বা অন্যান্য নির্ভরশীল সদস্য)। সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাত সরকার তাদের শ্রমবাজারের নিয়ম-কানুন আধুনিকায়ন করায় ভারত থেকে অদক্ষ শ্রমিকের চেয়ে দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী যাওয়ার হার অনেক বেড়েছে। ভারত সরকারের সর্বশেষ ই-মাইগ্রেট ডাটা অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ভারতীয় ব্লু-কালার শ্রমিকদের পছন্দের শীর্ষ গন্তব্য হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সমাধান যেখানে

আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে এই ভালো সম্পর্কের সমীকরণটি এখন আর কেবল ‘সস্তা শ্রম’ বা ‘ভ্রাতৃত্ববোধের’ ওপর ভিত্তি করে চলছে না। ইউএই এখন তাদের অর্থনীতিকে জ্ঞানভিত্তিক করতে চায়। এই সঙ্কট চিরস্থায়ী নয়, যদি বাংলাদেশ সঠিক সময়ে সঠিক কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হাতে নিতে পারে অচলাবস্থার অবসান হবে। আমিরাত সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিশ্চিত করতে হবে। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কূটনৈতিক টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। তাদের আশ্বস্ত করতে হবে, বাংলাদেশী নাগরিকরা কখনো আমিরাতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে না। ইউএই বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং প্রকৌশল খাতে দক্ষ পেশাদারদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বেশির ভাগ কর্মীই অদক্ষ হওয়ায় বাজার ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে।

আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন কারিগরি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। ভুয়া কোম্পানি ও ফ্রি ভিসার নামে যারা মানবপাচার করছে, সেই লাইসেন্সধারী বা লাইসেন্সবিহীন ট্র্যাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ডাটাবেজ সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে কোনো কর্মী বৈধ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ছাড়া দেশ ত্যাগ করতে না পারে। দেশ ছাড়ার আগে প্রতিটি কর্মীকে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, সংস্কৃতি, অপরাধের শাস্তি ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন দিতে হবে। ‘প্রবাসের মাটিতে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা দলীয় কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর পরিণতি চাকরিচ্যুতি বা কারাদণ্ড’— এই বার্তাটি প্রতিটি কর্মীর মগজে গেঁথে দিতে হবে। আরবি ও ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, কর্মসংস্কৃতি এবং সংশ্লিষ্ট পেশার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

উপসংহার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও এটিকে আমাদের জনশক্তি খাতের আমূল সংস্কারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। কেবল আবেগ বা সস্তা শ্রমের ওপর ভর করে আধুনিক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব। বাংলাদেশ সরকার যদি কঠোরভাবে দালালচক্র দমন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারে, তবে খুব দ্রুতই এই অচলাবস্থা কেটে যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের প্রধান শক্তি তার বিপুল জনশক্তি। এই জনশক্তিকে যদি দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নত করা যায়, তাহলে শুধু আমিরাত নয়, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশী কর্মীদের চাহিদা আরো বাড়বে।

লেখক : অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম-বিষয়ক উপদেষ্টা