এক শ’ দিনেরও বেশি সময় ধরে আমরা শুধু ইরান যুদ্ধের সর্বশেষ তথ্য জানার ও বোঝার চেষ্টা করছি। কে কখন কোথায় হামলা করল, কার কী ক্ষতি হলো। কেউ পাল্টা আঘাত করল কি-না, করে থাকলে তার ফলাফল কী; এর পরের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে; ট্রাম্প আলোচনার নামে ইরানকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছেন না তো, পাকিস্তান কি পারবে মধ্যস্থতার কাজে সফল হতে, ট্রাম্প কি সত্যিই ইরানের শর্ত শেষ পর্যন্ত মেনে নেবেন, নেতানিয়াহু কি ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যেতে দেবেন, এই যুদ্ধের পর আমেরিকা বা ইরানের অবস্থা কী হতে পারে; কোনো নতুন বিশ্বব্যবস্থা কি সত্যিই গড়ে উঠবে, তার স্বরূপই বা কেমন দাঁড়াবে— এমন হাজারটি প্রশ্নের জবাব পেতে আমরা প্রতি মুহূর্ত মুখিয়ে থাকছি। কিন্তু এই যুদ্ধ বিশ্বের কতটা ক্ষতি করছে, বিশ্ব অর্থনীতির ও বাণিজ্যের কী পরিমাণ ক্ষতি হতে যাচ্ছে, অথবা এর পর এসবের অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, সেসব বিষয়ে আমাদের মনোযোগ খুব কমই নিবদ্ধ হয়েছে। আসুন, এসব বিষয়ে খানিকটা জানার চেষ্টা করি।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু গত ৭ জুন এক রিপোর্টে জানায়, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে মন্থর হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বেআইনি যুদ্ধ এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের সরবরাহে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ কারণেই বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ধীর হবে।
নেতানিয়াহু কিন্তু যুদ্ধে নেই। যুদ্ধ করে যাচ্ছেন একা ট্রাম্প। তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী, বিশ্বের সর্বাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে লড়তে এসে এরই মধ্যে নাস্তানাবুদ। এখন একটি যেনতেন চুক্তি করে বেরিয়ে যেতে মরিয়া। কিন্তু ট্রাম্পের ‘প্রভু’ নেতানিয়াহু তাকে ছাড়ছেন না। চুক্তি করতে গেলেই পেছন থেকে এমন ইবলিশি চাল দিচ্ছেন যাতে চুক্তি না হয়। অতএব যুদ্ধ ট্রাম্পকে ছাড়ছে না। যতক্ষণ না নেতানিয়াহু পিছু হটার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু যুদ্ধের ফলাফল কী দাঁড়াচ্ছে!
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ আটকে গেছে, এটিই আমরা জানি। কিন্তু এই নৌপথে কেবল তেলের ট্যাঙ্কার চলে না, সব ধরনের পণ্যবাহী জাহাজও চলে। সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলই এখন বন্ধ। ফলে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ বা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সার বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ, ইউরিয়া সরবরাহের প্রায় ৪০ শতাংশ, সালফারের ৫০ শতাংশ এবং ফসফেটের সরবরাহের ৩০ শতাংশ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে অথবা বিঘ্নিত হয়েছে। এ ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (International Energy Agency) তথ্য, এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দৈনিক ব্যবহার বা চাহিদা ১০৪ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছে। কিন্তু সরবরাহ ছিল ৯৫.১ মিলিয়ন ব্যারেল। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায়, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর দৈনিক ক্ষতি ১৪.৪ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।
বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম যুদ্ধের আগের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে সরবরাহ সঙ্কটের কারণে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম কাউন্সিল জানিয়েছে, এই সময়ে জাহাজের জ্বালানি খরচ বেড়েছে ৫৯ শতাংশ। বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর ক্রমশ চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্বজুড়ে চলাচলকারী জাহাজের বহরে জাহাজ কমে গেছে। অনেক জাহাজ আটকে আছে হরমুজ প্রণালীতে। সব মিলিয়ে বিশ্বের বহু দেশের আমদানি-রফতানির ভারসাম্য তছনছ হয়ে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও বেড়েছে।
তেলসহ সব ধরনের পণ্য সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে ভোক্তাদের কেনাকাটা কমে যাওয়া এবং কোম্পানিগুলোর কাঁচামালের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কাটছাঁট করে ব্যাপকভাবে নিম্নমুখী দেখানো হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা-ওইসিডি বুধবার তার সর্বশেষ ‘ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যুদ্ধ এবং এর সময়কাল নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রতিবেদনে দু’টি পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেয়া হয়, এর একটি হতে পারে ‘সীমিত সময়ের বিঘ্ন’ এবং একটি হতে পারে ‘দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন’।
ওইসিডির প্রাক্কলন অনুযায়ী, যদি যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৩.৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ২.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩.১ শতাংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রবৃদ্ধিতে ০.৬ শতাংশীয় পয়েন্টের মন্দার অর্থ হলো— বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অন্তত ৭০০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতি। এই হিসাব করা হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান মূল্য প্রায় ১১৮ ট্রিলিয়ন ডলার ধরে।
ওইসিডির মতে, যদি যুদ্ধ এবং বাণিজ্য প্রবাহে বিঘ্ন আরো দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.১ এবং ২০২৭ সালে ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
একই সময়ে, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ফিচ রেটিংস (Fitch Ratings) যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তেল সঙ্কটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ২০২৬ সালের জন্য তাদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ২.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।
আশার কথা হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নেতৃত্বে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী গতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর তেল সঙ্কটের প্রভাব আংশিকভাবে প্রশমিত করছে। ফিচের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালী জুলাইয়ের আগে আর চালু হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মজুদ কমে যাওয়ায় আগামী দুই মাসে তেলের বাজার আরো সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ এই প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ স্বল্প সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কম।
এদিকে, ওইসিডির হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৩.১ এবং ২০২৭ সালে ২.৯ শতাংশ হবে। উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সামগ্রিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা আশা করছে, ২০২৫ সালে ৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধির পর এই বছর বিশ্ব বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি কমে ১.৯ এবং ২০২৭ সালে ২.৬ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সঙ্কটজনিত মন্দা কিছুটা পুষিয়ে যাচ্ছে।
বাণিজ্য ও উন্নয়ন-বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ সম্মেলন (UNCTAD) অনুমান করছে, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৬ শতাংশে দাঁড়াবে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতি আরো ভঙ্গুর সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সঙ্কট তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে। এই প্রতিকূলতার মুখে ঝুঁকিতে থাকা ৭৫টি দেশের মধ্যে প্রায় ৬৫টি দেশই তেল আমদানির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ইউএনসিটিএডির তথ্য অনুযায়ী, এই দেশগুলোর জনসংখ্যা ১০০ কোটি। আর এই ১০০ কোটি মানুষের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি মানুষ দৈনিক তিন ডলারেরও কম আয়ে জীবনযাপন করে।
বর্তমান আমদানির হার বিবেচনায়, তেলের দাম বাড়লে এই দেশগুলোকে বার্ষিক আমদানি ব্যয়ের সাথে অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় করতে হবে।
লাভ করছে মার্কিন কোম্পানিগুলো
যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরানের সাথে চুক্তি করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাহ্যত তেমনি বলেন তিনি ও তার পারিষদ। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে আমেরিকার ততই লাভ। রাশিয়ার তেল কোম্পানি রসনেফটের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রসনেফটের সিইও ইগর সেচিন বলেছেন, হরমুজ প্রণালী সঙ্কটের প্রধান সুবিধাভোগী হয়েছে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো, ‘প্রতিযোগিতাহীনতার সুবিধা’ এবং উৎপাদিত তেলের সরবরাহ উচ্চমূল্যে বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেচিন বলেন, মার্কিন হাইড্রোকার্বন অর্থাৎ তেলের রফতানির ‘সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে’। নরওয়েজিয়ান পরামর্শক সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জির হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে সেচিন বলেন, যদি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০০ ডলার থাকে, তবে ২০২৬ সালে মার্কিন তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে পারে। তেলের দাম এই মুহূর্তে ১০০ ডলারই। তাছাড়াও, ‘এই খাত থেকে অতিরিক্ত কর রাজস্বের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার।’ যুদ্ধকালে চীনের অবস্থা নিয়েও কথা বলেন সেচিন। তার বক্তব্য হলো, এ ধরনের সঙ্কটের জন্য চীন আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য বিঘ্নের জন্য আগে থেকেই অন্যান্য দেশের চেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত ছিল দেশটি। সেচিনের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্বল্প খরচের পরিবহন পরিকাঠামোতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করায় চীন তার ভোক্তাদের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন, বৈদ্যুতিক বাস, গ্যাসচালিত ট্রাক, মেট্রো ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক ট্রেন এবং বৈদ্যুতিক ট্যাক্সির মতো বিকল্পের জোগান দিতে পারছে।
রাশিয়ার নগদ লাভও কম নয়
হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় উপসাগরীয় দেশের তেলের সরবরাহ কমলেও বেড়েছে রাশিয়ার তেল বিক্রির পরিমাণ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল কিনত এমন অনেক দেশ যেমন— ফিলিপাইন এখন রাশিয়ার তেল কিনছে। চীন ও ভারত তো কিনছেই। এর ফলে হরমুজ সঙ্কট থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, লাভ তুলে নিচ্ছে রাশিয়াও। মার্কিন কোম্পানিগুলো যদি এ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের সুবিধা পায়, তবে রাশিয়াও খুব কম পাচ্ছে না। আনাদোলুর আরেক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, রাশিয়া আশা করছে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান বর্তমান সঙ্কট দেশটির বাজেটে অপ্রত্যাশিতভাবে এক ট্রিলিয়ন রুবল (প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব যোগ করতে পারে। সম্প্রতি রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে তার দেশ যে প্রতিকূল বাজেট পরিস্থিতিতে পড়েছিল, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়ায় তা বদলে গেছে। সিলুয়ানভ বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা রাশিয়াকে ব্যাপকভাবে লাভবান করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভূ-রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের অত্যন্ত অস্থিতিশীল প্রকৃতির কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের বর্তমান উচ্চমূল্য স্থায়ী নাও হতে পারে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বছরের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে মস্কো অতিরিক্ত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ সরাসরি জাতীয় রাজস্ব তহবিলে দেবে।
লেখক : সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত



