সম্পাদকীয়
এবার শিক্ষা সংস্কারের পালা
এখন মূল গলদগুলো দূর করার সময়। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা কাটাতে বিদ্যালয়গুলোতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিবিড় শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু করতে হবে। এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে না পড়ে। মানবিক বিভাগের পাঠ্যক্রম ও পাঠদান পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষায় প্রয়োজনীয় ল্যাব, যন্ত্রপাতি ও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেয়া জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য, সেগুলোতে পড়াশোনার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
দেশের অর্থনীতির অবস্থা আশাব্যঞ্জক নয়। ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে অর্থনীতিতে যে নৈরাজ্য ও চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তার জের মাত্র দুই বছরে কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে, রিজার্ভ জোরদার হয়েছে, আমদানি প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতি ফিরছে। তবে ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ ও মূল্যস্ফীতির সঙ্কট কাটেনি। পাশাপাশি বিপুল খেলাপি ঋণ, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়ে গেছে। এলডিসি (খউঈ) উত্তরণ পরবর্তী বাণিজ্যসুবিধা হারানোর ঝুঁকি এবং নতুন কর্মসংস্থান মন্থর হওয়ায় সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মুখে।
মনুষ্য সৃষ্ট বাধা দূর করুন
নদীদূষণ, নাব্যতা কমে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনও ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর সাথে আছে উজান থেকে পানি প্রত্যাহারের নেতিবাচক প্রবণতা। এসব ব্যাপারে যে একেবারে কিছু করণীয় নেই এমন নয়। দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ইতিবাচক ধারায় প্রবাহিত করা যায়।
জাতীয় নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়াবে
রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় জ্বালানি তেল ভবিষ্যতে আরো বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এর সাথে পুরো অর্থনীতি জড়িত। এ অবস্থায় অনির্ভরযোগ্য বেসরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে এর দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া কোনোভাবে ঠিক হবে না। জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ পুরোপুরি সরকারের অধীনে থাকাটাই নিরাপদ।
দাম্পত্য সম্পর্ক রক্ষা জরুরি
এই অবস্থা থেকে মানুষকে বের করে আনতে হলে প্রাচ্য জীবনাদর্শ ও পারিবারিক সংস্কৃতির সুফল এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিভিন্ন নেতিবাচক দিক সম্পর্কে তরুণদের ধারণা স্পষ্ট করার দরকার আছে। তথ্যপ্রযুক্তির কুফল সম্পর্কেও তাদের সচেতন করতে হবে। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত ও সুদৃঢ় করতে হবে। এজন্য শুধু সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে এমন নয়, দেশের সমাজবিজ্ঞানী, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, আলেমসমাজ সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। মিডিয়ার সহায়তাও জরুরি।



