উপসম্পাদকীয়
ইরান-আমেরিকার চুক্তি
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প ধমক, হুমকি ও ফেক নিউজের মাধ্যমে ভিলেন থেকে হিরো হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। আজ না হয় কাল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হতেই হবে। এটা সেই চুক্তি হবে, যা ৮ এপ্রিলের আগে চূড়ান্ত হয়েছিল। এই চুক্তির পর ট্রাম্প নিজে নিজেকে ইরান বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করবেন, কিন্তু সত্য হচ্ছে, তিনি মূলত ইরানের হিতাকাক্সক্ষী হয়ে গেছেন। তিনি যদি ইরানের ওপর হামলা না করতেন, ইরান তাকে পরাজিতও করত না এবং ইরান আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়ার এ সুবর্ণ সুযোগও পেত না।
নেতানিয়াহুর ধ্বংসযজ্ঞ শান্তির পথে বাধা
নেতানিয়াহুর মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে বাধা ইসরাইলি জাতীয় স্বার্থের পণ্য নয়। ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এমন একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থার দ্বারা পরিবেশিত হয় যেখানে তার প্রতিবেশীদের প্রতি সম্মান থাকবে, যেখানে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা এমন একটি কাঠামোর মধ্যে মিটমাট করা হবে যা সশস্ত্র প্রতিরোধের যুক্তি দূর করে এবং যেখানে আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ একটি টেকসই ভিত্তিতে এগিয়ে যায়। নেতানিয়াহু পদ্ধতিগতভাবে এই প্রতিটি শর্ত ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি গাজাকে অশাসনযোগ্য করেছেন, পশ্চিমতীরকে রাজনৈতিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রেখেছেন, লেবাননকে বিধ্বস্ত করছেন, ইরানকে সংঘর্ষের পথে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এমন সঙ্ঘাতে জড়িয়েছেন যা তার রাজনৈতিক বেঁচে থাকা নিশ্চিত করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মূল্যে।
মুসলিম বিশ্বে তত্ত্ব ও বাস্তবের বিচ্ছেদ : স্বরূপ ও প্রতিকার
আধুনিক মুসলিম বিশ্বের বহু পুনর্জাগরণ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে পরিচয়বোধ, ধর্মীয় সচেতনতা ও রাজনৈতিক আবেগ জাগিয়ে তুলতে সফল হয়েছে। তারা উম্মাহ, শরিয়াহ, খিলাফাহ, ইসলামী পুনর্জাগরণ ও সভ্যতার প্রশ্নকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। কিন্তু তাদের একটি বড় অংশ ধারণাকে প্রতিষ্ঠানে, আবেগকে দক্ষতায় এবং স্লোগানকে নীতিতে রূপান্তরে সাফল্য পায়নি। শিক্ষা, গবেষণা, অর্থনীতি, প্রশাসন, প্রযুক্তি, নগরব্যবস্থা কিংবা জ্ঞান উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের ধারা দুর্বল। ফলে আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু সভ্যতাগত রূপান্তর সীমিত থেকেছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন ইসলামী চিন্তার একটি সমন্বিত পুনর্গঠন
বাংলাদেশ বাসযোগ্য হবে কি না সন্দেহ ছিল তাজউদ্দীনের
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাজউদ্দীন আহমদের একান্ত সচিব ছিলেন ড. ফারুক আজিজ খান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে একটি বই লিখেছেন। ১৯৭১ নামক ওই বইয়ে তিনি কৌতূহলোদ্দীপক একটি তথ্য দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশ যে স্বাধীন হবে, সে বিষয়ে তাজউদ্দীন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে দেশ কতটা বাসযোগ্য হবে, সে বিষয়ে তার সন্দেহ ছিল
প্রতিরক্ষা থেকে রাষ্ট্রশক্তি
বাংলাদেশ এমন একসময়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যখন এক দিকে দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা সঙ্কট, সীমান্ত নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে; অন্য দিকে দেশের বিপুল যুব জনসংখ্যা রাষ্ট্রের জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছে।






