স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও শঙ্কা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফল হলে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় এক নবযুগের সূচনা হবে। এ দিকে আগের মতো নানা ষড়যন্ত্রের আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম সীমান্তজুড়ে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পিত অপচেষ্টা। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের মতো বড় কোনো একটি ঘটনা ঘটে যাওয়াও অসম্ভব নয়। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, অপারেশন সিঁদুর— এগুলো চরম এক অবিশ্বস্ত প্রতিবেশী আচরণের উদাহরণ। প্রতিদিন বিনা উসকানিতে পুশইনের জন্য সীমান্তে মানুষজনকে জড়ো করা হচ্ছে। তা প্রতিহত করতে বিজিবির সাথে সাধারণ মানুষ যোগ দিচ্ছে। এ অবস্থায় যেকোনো ওসিলায় সঙ্ঘাত তৈরি করে এই সফর ভণ্ডুল করার পাঁয়তারা করতে পারে। সরকার ও জনগণকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি রাহুমুক্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ হচ্ছে। আমরা স্বাধীন দেশ হলেও বিদেশ নীতিতে নয়াদিল্লিতে নাটাই বাঁধা ছিল। শেখ হাসিনা তাদের অনুমতি নিয়ে বাইরের দেশগুলোর সাথে কতটা মিশবেন, তা ঠিক করতেন। সর্বশেষ উদাহরণ ছিল ২০২৪ সালের ৮ জুলাই চার দিনের চীন সফর। ওই সফরের আগে তিনি ২১ জুন দিল্লি গিয়ে সবক নিয়ে আসেন, কতটুকু কী চুক্তি করবেন। চীনারা বিষয়টি বুঝতে পেরে একপ্রকার অপমান করে হাসিনাকে তাড়িয়ে দেন। কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস না পেয়ে সফর সম্পূর্ণ না করেই সে যাত্রায় হাসিনা হতাশ হয়ে দেশে ফেরেন। এর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে জান বাঁচাতে ক্ষমতা ও নিজ দেশ ছেড়ে প্রভুদেশে পালাতে হয়েছে।

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দিল্লির হাতে থাকা এই নিয়ন্ত্রণ ছিন্ন করে; যে কারণে ভারতের শাসকরা নাখোশ হয়ে অস্থির আচরণ করেছে। বিভিন্ন দিক থেকে ইউনূসের সরকারকে চাপে ফেলার অপচেষ্টা করেছে। তার পরও সেই সরকার স্বাধীনভাবে বহুমুখী বৈদেশিক সম্পর্কের সূত্রপাত করতে দুর্বলতা দেখায়নি। কোনো ধরনের চাপহীন পরররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে ড. ইউনূস বাংলাদেশকে তার স্বাদ দিয়েছেন। তারই ফল বিএনপি সরকারের জন্য ইতিবাচক দেখা দিয়েছে। আগের সরকারের রোহিঙ্গা-বিষয়ক হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ও পরে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ড. খলিলুর রহমানও এ জন্য কাজ করেছেন। ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তিনি বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছেন। এ পদের জন্য সাইপ্রাস দীর্ঘ একযুগের বেশি সময় প্রচারণা চালিয়েও তার কাছে হেরে গেছে। সাইপ্রাসের সাথে ভারতের সম্পর্ক গভীর। দেশটির পদপ্রার্থীকে জয়ী করতে ভারত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়েছিল। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের শুধু স্বাধীন উত্থান নয়, ভারতকেও টেক্কা দিয়ে এখন সামনে এগোচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অব্যাহত অনুসরণ করতে পারবে কি বাংলাদেশ? অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়, মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম স্বাধীন পররষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নিজে যেমন বৈশ্বিক নেতা হয়ে উঠছিলেন, একইভাবে বাংলাদেশকেও বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করে তুলছিলেন। ভারতের পেটের মধ্যে থাকা ছোট বাংলাদেশকে তিনি অনেকটাই বের করে এনেছিলেন। তাকে নির্মম প্রাণ দিয়ে এর মাশুল গুনতে হয়েছিল। এর পরে কিভাবে এরশাদের মতো একজন বেহায়া শাসককে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, তা সবার জানা। তিনি ধীরে ধীরে আবারো দিল্লির অধীনস্থ করেছিলেন বাংলাদেশকে। তার ভাই জি এম কাদের স্রেফ একজন ভারতীয় চর হিসেবে পরিচিত। জাতীয় পার্টিকে পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি টুল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভারত থেকে ফিরে কাদের বলেছিলেন, ওই দেশের নেতাদের সাথে কী আলোচনা হয়েছে, তা তাদের অনুমতি ছাড়া বলা যাবে না। একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতার এমন দাস আচরণ নজিরবিহীন হলেও তার মধ্যে এ নিয়ে লাজলজ্জা দেখা যায়নি।

ভারতের ইচ্ছানুযায়ী দেশ না চালালে পরিণতি কেমন হয়— বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় ঐক্যজোটের করুণ পরিণাম তার নজির হয়ে আছে। খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে ঢুকিয়ে দেয়া, বাড়ি থেকে উৎখাত করা, চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা, তার সন্তানদের নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা এবং জিয়া পরিবারের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত করা হয় একই কারণে। জোটের প্রধান সঙ্গী জামায়াতের ওপর আরো বেশি নির্মম আচরণ করা হয়। দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যা করা হয়, দলটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে রাখা হয়, তাদের নেতাকর্মীদের জীবন-সম্পদ ও সম্মান লুণ্ঠন করা হয়। এমনটি করা হয়েছিল হাসিনাকে সামনে শিখণ্ডি রেখে।

খালেদা জিয়ার সরকার যখনই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করতে চেয়েছে, তাতে নানা অন্তর্ঘাত চালিয়ে তাকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের ধারবাহিকতায় বহুমুখী বিদেশনীতি অনুসরণ করতে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি প্রথম বিদেশ সফর যাচ্ছেন পূর্ব এশিয়ার ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে ৯ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছে। সাড়ে ১১ হাজার ছাত্র দেশটিতে পড়তে গেছে। বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া। বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার তারা দেশে পাঠায়। এ ছাড়া দেশটির সাথে ব্যবসায়-বাণিজ্য বাড়ানোর বিপুল সুযোগ রয়েছে। ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে তারেক রহমান তিন দিনের সফরে যাবেন চীন। মূলত চীন সফরটি সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ক্ষমতা গ্রহণের পরপর চীন ও মালয়েশিয়া— উভয় দেশের সরকারপ্রধান তারেক রহমানকে তাদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রথম সফরে মালয়েশিয়াকে বাছাই করা ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর চীন হবে, সেটি ভারত ও পশ্চিমারা ভালোভাবে নেবে না। যদিও এখন সবাই চীনের দিকে ছুটছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর করে বিবাদ মিটিয়ে মিলেমিশে চলার বার্তা দিয়েছেন। এশিয়ায় চীন ঠেকানোর যে নীতি তা থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। কোয়াডের আড়ালে যে ইন্দোপ্যাসিফিক নীতি সেটিও লো-প্রোফাইলে চলে গেছে। চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে দাঁড় করানোর পুরনো প্রকল্প পরিত্যক্ত হয়েছে। ভারত নিজেও জোরেশোরে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এত দিন ধরে চীনকে পরাস্ত করার যে জোশ ভারত দেখিয়েছে তা থেকে ১৮০ ডিগ্রি উল্টো দিকে ফিরে গেছে দেশটি।

ভারতের সরকার চীন বিরোধিতার ওপর তাদের দেশে এখন একধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রকাশ্যে কোনো ফোরামে আর তারা এটি করতে দেবে না। এর খড়গ পড়েছে তাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও। ভারতে ক্ষমতায় থাকার প্রধান কৌশল ধর্মীয় জোশ। বিজেপি সরকার সিনেমাকে এ কাজে ব্যবহার করেছে অশোভনভাবে। সীমান্তে পাকিস্তানের সাথে বিরোধ নিয়ে সিনেমা বানানো হয়। ঘটনা যাই ঘটুক, বলিউডের নায়ক-নায়িকারা অভিনয় করে দেখান হিন্দুত্বের বিজয়গাথা। ভারতীয় সৈনিকরা কিভাবে পাকিস্তানিদের বধ করছে, সেটি মুখ্য হয়ে উঠে। সিনেমায় কোথাও তাদের পরাজয়, দুর্বলতা, ভুল ও নির্বুদ্ধিতা দেখানো হয় না। একই নীতির অনুসরণ চীনের বিরুদ্ধেও বলিউডে শুরু হয়। গালওয়ানে পরাজয়ের বাস্তবতাকে সিনেমায় বিজয়গাথা বানিয়ে ফেলেছে তারা।

গালওয়ান সংঘর্ষে বহুসংখ্যক সৈন্য হারিয়ে মোটাদাগে চীনা সৈন্যদের কাছে পরাস্ত হয় ভারত। সীমান্তে ছোট পরিসরের ওই যুদ্ধে ১৯৬২ সালের মতো শোচনীয়ভাবে হারে তারা। ঘটনার পর এর ওপর বেশ কয়েকটি ছবি নির্মিত হয় বলিউডে। ভারত নিজে যে চীনমুখী হয়ে যাচ্ছে, এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে বিজেপি সরকার ওই সব চীনবিরোধী সিনেমা সংশোধনের আদেশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে বলিউডের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, এখন থেকে আর চীনবিরোধী সিনেমা বানানো যাবে না। মেগাস্টার সালমান খানের ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ সিনেমার নাম পরিবর্তন করতে হয়েছে। গালওয়ান সংঘর্ষে নিহত পদকপ্রাপ্ত সিপাহি গুরতেজ সিংয়ের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে ‘দ্য লায়ন অব গালওয়ান’ সিনেমাটির নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চীন নিয়ে সিনেমা নির্মাণের আগে এখন থেকে ভারতের সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমিত বা ছাড়পত্র নিতে হবে। তবে পাকিস্তানকে সিনেমায় যতটা পচানো যায় তাতে বিজেপি সরকারের কোনো আপত্তি নেই।

ঢাকায় এখন প্রধান খবর— তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সফল সফর। ওই সফরে কূটনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। এ দিকে চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কোন কোন বিষয়ে সমঝোতা ও চুক্তি হবে তার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশকে উষ্ণ বন্ধুত্বের বার্তা দিতে দেশ দু’টি অপেক্ষায় রয়েছে। এই সময়ে ভারতের মুখপাত্র দিল্লি থেকে ঘোষণা দিচ্ছে ‘অবৈধ’ বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে দেয়ার। এ ব্যাপারে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাহায্য চান। এর অর্থ দাঁড়ায়— ভারত একটি উন্নত দেশ। সেই দেশে বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ দরিদ্র অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। যেখানে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে। বিশেষ করে সীমান্তের আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে বাংলাদেশ মানব উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে অগ্রগামী।

এমন সময় প্রসঙ্গটি সামনে আনছে যখন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনাকে দিল্লি আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। একইভাবে আরো বেশ কয়েক হাজার আওয়ামী দুর্বৃত্ত দেশটিতে আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশে বিচার চলমান রয়েছে। কারো কারো বিরেুদ্ধে শাস্তির রায়ও হয়েছে। এই অপরাধীদের ভারতে অবস্থানের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়া তার আগে থেকেও নানা অপরাধ করে সে দেশে আশ্রয় নিয়ে আছে বহু দাগী আসামি। সেখান থেকে তারা বাংলাদেশের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অপরাধীদের থাকার সুব্যবস্থা করে ভারত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অপ্রমাণিত ‘অবৈধ বাংলাদেশীদের’ পুশইন করছে। এ ক্ষেত্রে দেশীয় আন্তর্জাতিক কোনো আইন মানছে না। ধার ধারছে না মানবাধিকারের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ্য বাংলাদেশের কাছে সাহায্য চাচ্ছে অবৈধদের ফেরত নেয়ার জন্য, যেখানে পুশইন করা হচ্ছে গোপনে রাতের অন্ধকারে। এমন সন্দেহমূলক আচরণ প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কোথাও দেখা যায় না।

বাংলাদেশ যখনই বহুমুখী স্বাধীন কূটনীতি অনুসরণ করতে গেছে, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশের ভেতর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ বাধায় পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ দিনের চীন সফর। বাংলাদেশে তখন ‘লুক ইস্ট’ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিল। ওই সফর ছিল এ উদ্যোগের সূচনা। চীনের সাথে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা সম্পাদিত হওয়ার কথা ছিল ওই দীর্ঘ সফরে। ওই দিন সকালে দেশের ৬৩ জেলায় ৪৩৪ স্থানে একযোগে ৫০০ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। বেগম জিয়া সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

এ ধরনের বড় পরিসরে বোমা হামলা চালানো সক্ষমতা কোনো উগ্র গোষ্ঠীর নেই। এ জন্য জেএমবির নাম দেয়া হলেও মূলত যে সময়টিকে বাছাই করা হয়েছে, তা থেকে অনুমান করা সহজ যে, চীনের সাথে সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করতে বৃহৎ পরিসরে হামলার ঘটনা একটি বৃহৎ শক্তির পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এরপর বাংলাদেশের নেয়া লুক ইস্ট কৌশল পণ্ড হয়ে যায়। তার পরই আসে দেশবিরোধী এক-এগারো ষড়যন্ত্র। দেশ আধিপত্যবাদের এক কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে যায় দেড় যুগের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফল হলে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় এক নবযুগের সূচনা হবে। এ দিকে আগের মতো নানা ষড়যন্ত্রের আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম সীমান্তজুড়ে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পিত অপচেষ্টা। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের মতো বড় কোনো একটি ঘটনা ঘটে যাওয়াও অসম্ভব নয়। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, অপারেশন সিঁদুর— এগুলো চরম এক অবিশ্বস্ত প্রতিবেশী আচরণের উদাহরণ। প্রতিদিন বিনা উসকানিতে পুশইনের জন্য সীমান্তে মানুষজনকে জড়ো করা হচ্ছে। তা প্রতিহত করতে বিজিবির সাথে সাধারণ মানুষ যোগ দিচ্ছে। এ অবস্থায় যেকোনো ওসিলায় সঙ্ঘাত তৈরি করে এই সফর ভণ্ডুল করার পাঁয়তারা করতে পারে। সরকার ও জনগণকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

jjshim146@yahoo.com