ভুল পাসে আত্মঘাতী গোল হতে পারে

নতুন সরকার মাত্র মাঠে নেমেছে; খেলা গড়িয়েছে কয়েক মিনিটে। গ্যালারিতে দর্শকরা নীরব। সেই নীরবতার ভেতর জমে আছে প্রত্যাশা। একটি গোল হলে ফেটে পড়বে উল্লাস। ভালো খেললে গোল আসবে। তবে মনে রাখতে হবে, ভুল পাস থেকে কিন্তু আত্মঘাতী গোল হতে পারে

খেলা মাত্র শুরু হয়েছে। নিজেদের মধ্যে বল পাস করে দিচ্ছে সরকারি দল। কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষায় দর্শক। মাঠজুড়ে নীরবতা। কোথাও কোনো উত্তেজনা নেই। অথচ বড় একটা ভুল পাস ঘিরে মাঠ গরম করে ফেলতে পারত বিরোধীপক্ষ। কিন্তু তারা রয়ে-সয়ে খেলছে। বিএনপির বল কোন দিকে যায়, সেটা দেখার চেষ্টা করছে জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলো।

গণভোটে পাস হওয়া ‘হ্যাঁ’ রায়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বিএনপির মধ্যে। কিন্তু এর বিপরীতে আক্রমণ ভাগে খেলতে যাচ্ছে না জামায়াত-এনসিপি। অনেকে মনে করছেন, বিএনপিকে মাঠজুড়ে খেলার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। খেলতে খেলতে আত্মঘাতী গোল খেয়েও ফেলতে পারে দলটি! বিষয়টা কি আদৌ তেমন?

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে অনভিজ্ঞ নন। বেঘোরে গোল খাওয়ার মতো লোক নন তিনি। দীর্ঘ সময় সংগঠন ধরে রেখেছেন তারেক রহমান। দলকে রেখেছেন ঐক্যবদ্ধ। বহু ক্ষেত্রে ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তারুণ্যকে দিয়েছেন গতি। আর অভিজ্ঞতা থেকে নিয়েছেন গভীরতা। সে হিসেবে বুঝে—শুনে খেলার কথা তার। তবে তাকে সতর্ক থাকতে হবে, কোনোভাবে যেন বিরোধী দলের প্রতিবাদের ভাষা আটকে দেয়া না হয়। গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে দুর্বল করে দেয়া হলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে। এর জের পরে সরকারি দলের ওপরও। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল হিসেবে কাজ করতে হবে। জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমানকে দেখা গেছে, নিজের হাতে রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছেন। এ প্রতীকী কর্মসূচিতে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। তবে কেবল প্রতীকী কর্মসূচি নয়, সংসদে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে তাকে। রাষ্ট্রের দূষণ ‘ব্রাশ আউট’ করার দায়িত্ব নিতে হবে ডা: শফিককে। কারণ যুক্তিনির্ভর বিরোধিতা সরকারকে সঠিক পথে রাখে।

শপথ নেয়ার পরদিনই মন্ত্রিসভা বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮০ দিনের কাজের পরিকল্পনা। সামনে আনা হয়েছে তিনটি বিষয়— দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। এই বিষয়গুলো প্রতিদিনের জীবনের সাথে যুক্ত।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর। মাত্র কয়েক দিন বয়সী সরকারের পক্ষে এর লাগাম টানা চ্যালেঞ্জিং। তা ছাড়া সরকার শপথ নেয়ার পর পর শুরু হয়ে গেছে রমজান মাস। আমাদের দেশে রমজান এলে মানুষের পকেট কাটতে শুরু করে সিন্ডিকেট। বাজারে গিয়ে পণ্যের দাম শুনে হতাশ হয়ে ফিরে আসে মানুষ। তখন সরকারের প্রতি আস্থা কমে। বিষয়টি মাথায় নিয়ে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ঘোষণা দেয়াটা অবশ্যই ইতিবাচক। এখন খেয়াল রাখতে হবে, এটা যেন কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। সেই সাথে কার্যকরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দ্রব্যমূল্য কেবল অর্থনীতির সূচক নয়; এটি সামাজিক স্থিতির মাপকাঠি।

সামাজিক স্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এ বিষয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, মব কালচার বন্ধ করা হবে। সেটাই হওয়া উচিত। গণতন্ত্রে দাবি আদায়ের অধিকার দেয়া আছে। কিন্তু সেই অধিকারের চর্চা করতে হয় অন্যের ক্ষতি না করে। রাজনৈতিক প্রতিবাদের জন্য ৫০০ লোক নিয়ে সড়ক বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকলে পাঁচ হাজার লোকের দুর্ভোগ হয়। এ সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু ‘মব’ ঠেকানোর নামে যদি প্রতিবাদের ভাষা বন্ধ করার ইচ্ছা থাকে, সেটা ভালো ফল নিয়ে আসবে না। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো বহুমতের অবস্থান। যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একই সাথে ঠিক রাখতে হবে সরকারকে।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। রাজনীতিতে তিনি ‘ক্লিন ইমেজ’-এর নেতা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতি করছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ভেতরের জটিলতা তিনি জানেন। দ্রুত জেলা-উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। এ নির্বাচনগুলো আগে হয়ে গেলে আরো ভালো হতো। কারণ, স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের প্রথম স্তর। সেখানে নাগরিকরা সরাসরি প্রতিনিধির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেন। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকারে প্রতিনিধি ছিল না। এতে নাগরিকসেবা থমকে ছিল। এই কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর একটা পক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ নির্বাচন দাবি করেছিল। তখন আপত্তি ছিল ফখরুল সাহেবদের। নতুন সরকার গঠনের পরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছেন, বিষয়টা ইতিবাচক। কিন্তু, কথা হলো, এই নির্বাচন অবশ্যই অবাধ-সুষ্ঠু হতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনই স্থানীয় শাসনকে শক্তিশালী করতে পারে।

নতুন সরকারে অর্থমন্ত্রী হয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের নেতৃত্বে ছিলেন। এখন মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যান, সেটা দেখার বিষয়। শেখ হাসিনা অর্থনীতিকে খাদের তলায় রেখে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে টেনে তুলে এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি সবার জন্য সমান সুযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনরুদ্ধারের কথা বলেছেন। এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতা দুটোই দরকার। অর্থনীতি যদি সবার জন্য না হয়, তাহলে উন্নয়ন কেবল পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার উদ্যোগের কথা বলেছেন। কারণ প্রস্তুতি ছাড়া উত্তরণ বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি করে। আমাদের বাণিজ্য কাঠামো এখনো একমুখী ও নির্ভরশীল। ভারত আমাদের যেসব পণ্যে পূর্ণ সুবিধা দেয় না বা অশুল্ক বাধা তৈরি করে, সেগুলো নিয়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে সক্রিয় হতে হবে। দিল্লির সাথে সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হবে, কিন্তু সেটা হতে হবে ‘উইন-উইন’। নিজের দেশের উৎপাদক, রফতানিকারক ও শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা করে আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেয়া উচিত।

ড. খলিলুর রহমান, একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক। বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রর আরোপ করা শুল্ক কমানোর পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে। সেই তিনি এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার সামনে চ্যালেঞ্জ, ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি বাস্তবায়ন। প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের দিকে ঝুঁকে যাওয়া যাবে না। একই সাথে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সাথে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নত করতে হবে। রোহিঙ্গা সঙ্কট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য সুবিধা— সব ক্ষেত্রে বিচক্ষণ কূটনীতি প্রয়োজন।

আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমরা চাই আইন সত্যিই নিজস্ব গতিতে চলুক, কারো প্রভাব বা প্রতিহিংসার গতিতে নয়। সংবিধানে ন্যায়পাল একটি নৈতিক প্রতীক; আমরা তাকে জীবন্ত দেখতে চাই। ন্যায়বিচার যদি নিরপেক্ষ না হয়, তবে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়।

নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ওষুধ ও চিকিৎসা খাতে সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। কর্মসংস্থান মন্ত্রীর প্রতি আমাদের প্রত্যাশা, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন তিনি। প্রবাসীরা কেবল বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান না; তারা দেশের অর্থনীতির নীরব স্তম্ভ। ভূমিমন্ত্রী হিসেবে রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু পূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। ভূমির জটিলতা, রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন ও দখলদারিত্ব রোধে তার দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন। শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নকল প্রতিরোধে তার ভূমিকা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। তার সেই উদ্যম এখনো থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের সাথে সংলাপ করে ইতিবাচক সূচনা করেছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা, দুটিই রক্ষা করতে হবে তাকে।

‘চাঁদ-কপাল’ নিয়ে দায়িত্ব শুরু করেছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। প্রথম দিন তিনি চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। শাহ কায়কোবাদ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন নির্বাসনে কাটাতে হয়েছে তাকে। তাই দেশের আলেম-ওলামাদের সুখ-দুঃখ হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারবেন, এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক। একই সাথে ধর্মীয় শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা ও বঞ্চনার বিষয়েও সংবেদনশীল হবেন বলে আশা করা যায়।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তার কাছে প্রত্যাশা, তিনি খেলাধুলাকে কেবল প্রতিযোগিতা নয়, জাতীয় ব্র্যান্ডিংয়ের শক্তি হিসেবে গড়ে তুলবেন। কূটনীতিকরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান যতটা তুলে ধরেন, তার চেয়ে বেশি ব্র্যান্ডিং হয় খেলাধুলার মাধ্যমে। আমিনুল হককে ফিরিয়ে আনতে হবে ক্রিকেটের যৌবন। অবশ্যই আইসিসির আধিপত্যবাদী ভূমিকার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে তাকে।

এর মধ্যে অসতর্ক হয়ে একটা ভুল পাস দিয়ে ফেলেছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেয়ার পক্ষে কথা বলেছেন তিনি। রবিউল মনে করেন, এই টাকাটা সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা হচ্ছে। জোর করে আদায় করছে না কেউ। এই চেষ্টা আসলে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া। এতে আইনের শাসন ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মানুষ কিছুটা হলেও আশা দেখেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশকে টেনে তুলেছিলেন খাদের কিনারা থেকে। আরবি ‘ইউনূস’ শব্দের বাংলা অর্থ হলো- উদার, স্নেহশীল অথবা সহৃদয়। শেখ হাসিনার শাসনের পর সত্যি সত্যিই একটি বিশাল হৃদয় নিয়ে দেশ চালিয়েছেন ড. ইউনূস। তার নেতৃত্বে থাকা সরকার অনেকটাই এগিয়ে দিয়ে গেছে মানবিক ও সংস্কারমুখী প্রশাসনিক ধারা। এ ধারা অর্থনীতিতে স্থিতি ফিরিয়ে এনেছে। বাংলাদেশের জন্য গড়ে দিয়ে গেছে ইতিবাচক ভিত। অবশ্য তার সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আছে। এ সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন ছিলেন বলে মনে করা হয়। তাদের সেই দায়ও ইতিহাসে লেখা থাকবে। ইতিহাস প্রশংসা যেমন মনে রাখে, তেমনি দায়ও লিখে রাখে।

নতুন সরকার মাত্র মাঠে নেমেছে; খেলা গড়িয়েছে কয়েক মিনিটে। গ্যালারিতে দর্শকরা নীরব। সেই নীরবতার ভেতর জমে আছে প্রত্যাশা। একটি গোল হলে ফেটে পড়বে উল্লাস। ভালো খেললে গোল আসবে। তবে মনে রাখতে হবে, ভুল পাস থেকে কিন্তু আত্মঘাতী গোল হতে পারে।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

smmoshahid@gmail.com